বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ পালাবার দল নয়। বারবার শুধু পালানোর কথা বলছেন! স্বপ্ন দেখছেন ময়ূর সিংহাসন, সোনার হরিণ। আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নামবে, তখন রঙিন খোয়াবের মতো এই স্বপ্ন কর্পূরের মতো উড়ে যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার ঘোষণার আগে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারিভাবে এটার সিদ্ধান্ত হয়। এই বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের হেড কিন্তু প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সারা দুনিয়ার পরিস্থিতি, বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া- সব কিছু জেনেশুনে এটা করা হয়েছে। আমরা আগেই বলেছি, বাধ্য হয়ে করেছি, নিরূপায় হয়েই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছি। মানুষকে আমরা কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু আমাদের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেছেন, যখনি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে, তখন আমরাও সেটা সমন্বয় করে নেব।’

আওয়ামী লীগ সরকার চারবার তেল-গ্যাসের দাম কমিয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে বিএনপি বড় বড় কথা বলে! তাদের সময়ে কী ছিল? বিদ্যুৎ ছিল না, ছিল খাম্বা। সকাল নাই, বিকেল নাই ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং- এটা কি মিথ্যা? কোন মুখে তারা আজকে বিদ্যুৎ সম্পর্কে কথা বলে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছি। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আমাদের হাতে যখন সম্ভাবনাময় সময় আসবে তখন তো আমরা আমাদের প্রমিজ থেকে পিছিয়ে যাব না। আমাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাব না।’

আপনাদের জোট শরিকদের কেউ কেউ তো কর্মসূচি দিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জোটের কোন শরিকরা কর্মসূচি দিচ্ছে। দিক, দলগতভাবে তাদের অধিকার আছে। তারা চাইলে কর্মসূচি দেবে। আমাদের জোট তো ইলেকশন অ্যালায়েন্স। সেটা তো কৌশলগত জোট, আদর্শিক জোটের বিষয় নয়।’

যারা সরকারের পতন ঘটাতে চায় তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব? বিরোধী দল হিসেবে যদি তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে, তাহলে আমরা সেখানে তাদের বাধা দেব কেন? এটা তো গণতন্ত্রের বিষয়। কিন্তু তারা যদি এই আন্দোলনের সঙ্গে সহিংসতার উপাদান যুক্ত করে আবারও যদি আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নামে, তাহলে কি আমরা নীরব হয়ে বসে থাকব? আমরা কি ঘরে বসে থাকব? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি আঙুল চুষবে? প্রতিরোধ করতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। খেলা হবে, মোকাবিলা হবে। রাজপথে মোকাবিলা হবে।

তিনি বলেন, আপনারা বারবার সরকারের পতন দেখতে পাচ্ছেন, প্রতিদিনই সরকারের পতন? প্রতিদিনই বলে সরকার পালিয়ে যাবে। কোথায় পালাবে? আমাদের দেশ এই বাংলাদেশ, পালানোর ইতিহাস আমাদের (আওয়ামী লীগের) নেই। প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো, পালাবো না। আওয়ামী লীগ পালাবার দল নয়। পালাবার দল আপনারা। আপনাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তিনি কোথায়? টেমস নদীর তীরে কীভাবে গেছেন? জরুরি সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে এখান থেকে চলে গেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।