১৫ আগস্টের ঘটনা বাঙালি জাতির ললাটে ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকের জাতির কলঙ্ক লেপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবনের সব কিছু বিসর্জন দিয়ে বৈরি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং কারাগারে অধিকাংশ জীবন কাটিয়ে তিলে তিলে একটি জাতি গড়ে তুলেছেন, সেই জাতিরই কিছু কুলাঙ্গারের হাতে সপরিবারে নিহত হওয়ার নজির খুবই বেদনাদায়ক ও নির্মম। বিদেশে থাকার কারণে সৌভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।

সোমবার রাজধানীর জিপিও মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিয়েছিলেন, পরমাণু শক্তি কমিশন গঠন, টিএন্ডটি বোর্ড স্থাপন করেছেন, উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। কুদরত-ই –খোদা শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার আমুল পরিবর্তনের সূচনা করে ছিলেন। দেশের প্রায় প্রতিটি  সেক্টরকে যুগের চাহিদা মেটানোর উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। বস্তুতপক্ষে একবিংশ শতাব্দীর আজকের জীবন যাপন এবং ৪১ সালে যেখানে বাংলাদেশ পৌঁছাবে তার বীজ বপন করে গেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাড়ে আঠারো বছরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ বেয়ে তা অংকুরিত করে বৃক্ষে রূপান্তরিত করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, ইয়াহিয়া খানের লিগ্যাল ফ্রেম ওয়ার্কের অধীনে অভ্যন্তরীণ বিরোধীতা সত্ত্বেও সত্তরের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ ছিল বঙ্গবন্ধুর দৃরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্তের ফসল। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধকে বিচ্ছিন্ন আন্দোলন বলার সুযোগ ছিল না। সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নিরঙ্কুশ বিজয়ে পুরো দেশের সকল জনতা এক হবার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাঙালির এই যুদ্ধে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে।  

মোস্তফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে নতুন প্রজন্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীসহ বঙ্গবন্ধুকে অধ্যয়ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতো একজন মহান নেতার জন্ম হয়েছিলো বলেই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর কাছে আমাদের ঋণের শেষ নেই। 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো: খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির'র চেয়াররম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: ফয়জুল আজিম এবং বিটিসিএল‘র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: রফিকুল মতিন বক্তৃতা করেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ল্যাফট্যানেন্ট কর্নেল (অব:) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের দৃঢ়তার বিভিন্ন ঘটনাবলী তুলে ধরেন।