দল থেকে বহিস্কৃৃত এক নেতাকে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদের 'জিহ্বা' কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বহিস্কৃৃত নেতা এম এ এজাজ। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদের সঙ্গে কুসুমপুরা ইউনিয়নের নৌকার বিরোধিতাকারী বহিস্কৃৃত নেতা এম এ এজাজের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

মূলত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় দলীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ কারণে নৌকার বিরোধিতাকারী এজাজকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. ক. ম. শামসুজ্জামান চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- সাবেক নারী সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক, পটিয়া পৌরসভার মেয়র আয়ুব বাবুল ও সাংবাদিক ওমর কায়সার।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ এজাজ চৌধুরী নৌকা প্রতীক চেয়ে না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আওয়ামী লীগ দল থেকে তাঁকে বহিস্কার করলেও তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। সোমবার জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায়ও তিনি অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ওপর ক্ষুব্ধ হন। অনুষ্ঠান শেষে হল টুডে কমিউনিটি সেন্টারে এজাজ এক পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলেন- 'জিহ্বা কেটে ফেলব।' এ সময় অধ্যাপক হারুন দল থেকে বহিস্কৃত এজাজকে চড়থাপ্পড় মারেন। এ সময় নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে পটিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর গোফরান রানার নেতৃত্বে কিছু ছাত্রনেতা অধ্যাপক হারুনুর রশিদকে রক্ষা করেন।
রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পটিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলনায়তনে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল।

অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, শোক দিবসের আলোচনায় কারা বক্তব্য দেবেন তা আগে থেকে নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে নুর রশীদ চৌধুরী এজাজ কোনো কথা বলতে রাজি হননি। গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন নুরুর রশিদ চৌধুরী এজাজ। সে সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ। পরে আওয়ামী লীগ নেতা ও হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিতেন কান্তি গুহকে কাপড় খুলে গাছে বেঁধে মারধরের ঘটনার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশে গত ৩০ এপ্রিল এজাজসহ ৫ জনকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।