কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘জামায়াত-বিএনপি এখনও সক্রিয়। তারা থেমে নেই। দেশের উন্নয়নে তারাই এখন বাধা। স্বাধীনতার সময়েও তারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিলো। তারা সব সময়ই দেশের শত্রু।’

বৃহস্পতিবার গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদ উল্লাহ মিনু।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সম্মিলিতভাবে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুকে। আর ক্ষমতায় এসে খুনিদের প্রমোশন দিয়েছেন খালেদা জিয়া। বাংলার মাটিতে তারেক জিয়ার বিচার হয়েছে। সে একজন জেল পলাতক আসামি। দেশে তার জায়গা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও করে। এখনও তাই করছে। এটা তাদের চিরায়ত স্বভাব। এর আগে তারা চরম ক্ষতি করেছে। সেই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে আর হবে না।’

বিনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। আমরা বিচার করছি। আরও হবে। আমরাই বিএনপির বিচার করবো। কারণ, জনগণ শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে।’

এ সময় আগামী নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মাধ্যমেই নির্বাচন হবে। সংবিধানে আছে, যে সরকার থাকবে সেই সরকারের মাধ্যমেই নির্বাচন হবে। সংবিধানানের ১২৬ ধারায় এটি উল্লেখ আছে। ২০২৩ সালে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। যদি জনগণ আমাদের ভোট না দেয় আমরা তাদের স্যালুট দেবো। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, জনগণ আমাদের আবার ভোট দেবে।’ এসময় তিনি জনগণকে শেখা হাসিনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাংলার মানুষ অন্যায় করেছে। তাদের ক্ষমা হবে না। তিনি যতদিন তিনি কারাগারে থেকেছেন ততদিন তিনি স্বাধীন দেশেও বাস করেননি। জিয়াউর রহমান খুব সুকৌশলে আমাদের পরিবারকে হত্যা করেছে। তার যোগসাজশেই সব হয়েছিলো এবং তা প্রমাণও হয়েছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন কাফের। বাংলার সব থেকে বড় বিশ্বাসঘাতক তিনি। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জিয়া সবসময় জড়িত ছিলো। কিন্তু তার পরিণামও ভালো হয়নি।’ এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বচনে সব স্তরের মানুষের প্রতি আমার দাবি থাকবে- সকলে নৌকায় ভোট দেবে। যদি কেউ বিএনপিতে ভোট দেয় তবে পাপ হবে। কোরআন হাদীসের আলোকে তা আমি প্রমাণ করে দেবো।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি সাজেদা বেগম, হেদায়েত উল্লাহ স্বপন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরসহ ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।