বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে এবং শেখ হাসিনাকে রক্ষায় ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেহেশতে থেকে তো আর মিথ্যা কথা বলা যায় না। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যটাই বলে দিয়েছেন।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার পায়ের নিচে মাটি নেই এই কথাটাই তো সত্য প্রমানিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক সময় তার নিজের অজান্তেই অনেক সত্য কথা বলে বসেন। এই সরকার সম্পর্কে বিএনপি এবং দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের যে ধারণা সেটাই এই সরকারের মন্ত্রীরা প্রমাণ করছেন।

শুক্রবার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, আমাদের নেত্রী এই সরকারের প্রধানকে লেন্দুপ দর্জি'র সাথে তুলনা করেছিলেন। আজকে মোমেন সাহেবের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো, খালেদা জিয়ার বক্তব্যই ছিল সঠিক।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আজকে দেশে গুম, খুন হত্যার রাজত্ব চলছে। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। কিন্তু এগুলোর বিষয়ে সরকার কর্ণপাত করে না। কারণ আপনারা জানেন এদের কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে। জনগণের ভিত্তির উপর তারা তো দাঁড়িয়ে নেই। তারা দাঁড়িয়ে থাকতে চায় অন্যের শক্তির উপর দিয়ে। এরা যে দড়িটা ধরে আছে সেটা জনগনের দড়ি নয়, রশিটা হচ্ছে বাহিরের। আজকে প্রকাশ্যে সেটা প্রকাশ করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তির সন্তান। আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছি। আমরা আমাদের জনগণকে বিশ্বাস করি, জনগণকে আমরা মনে করি সকল ক্ষমতার উৎস, যেটা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বলে গেছেন। আমাদের দড়ি অন্য কোথাও নেই। 

তিনি বলেন, সরকারে গঠনের প্রশ্নে আমরা সবসময় জনগণের শক্তির উপর সাহস করেই কথা বলি। এজন্য সবার অংশগ্রহণে স্বচ্ছ নির্বাচন আমরা চাই। আমরা কারও কাছে ধর্না দেই না যে আমাদের ক্ষমতায় বসাতে হবে। ওরা (সরকার) সবকিছু হারিয়েছে। তারা জনগনকে ত্যাজ্য করেছে বলেই অন্যের কাছে যাচ্ছে তাদেরকে টিকিয়ে রাখার জন্য। আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন করে অন্যের শক্তির উপর দিয়ে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সরোওয়ার, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।