গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। শেখ হাসিনা আপনিও আসেন সেই নির্বাচনে, যদি জনগণের ওপর ভরসা থাকে। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তাহলে আপনিও আসেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচনে, সাহস নিয়ে আসুন, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে কে জয়ী হবেন?

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ২০১৪ আর ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চান? সেইটা বাংলাদেশের মাটিতে আর হবে না, ওইদিন শেষ। এখন মানুষ প্রস্তুত যতই অত্যাচার করেন না কেন, মানুষ রুখে দাঁড়াবেই। আপনি জানেন না আন্দোলনটা কোথা থেকে শুরু হবে। এমনও হতে পারে বাজার থেকেই আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে। গণফোরামের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকে ডাক দিয়ে যাই, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সোমবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আব্দুস সালাম হলে গণফোরামের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুঃশাসন হটিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ গণফোরাম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশকে বিভাজিত করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে ব্লেম করে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা হল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, মুক্তিযুদ্ধের মূল লড়াই ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সংবিধানে আমাদের মূল কথা আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা শোষণহীন সমাজ চাই এবং আমরা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি চাই।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, যেখানে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ডিজেল দিয়ে ২৫ টাকা, গ্যাস দিয়ে ৩.৫০ টাকা লাগে তাইলে আজকে এই ১২ বছর আগে থেকে কুইক রেন্টাল সার্ভিসের নামে কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তিদের হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে বিলিয়নিয়ার তৈরি করার জন্য শেখ হাসিনা যে সুযোগ দিয়েছেন, এটা জাতির প্রতি অন্যায় করেছেন।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সুব্রত চৌধুরী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে যে ঘোষণা দিয়ে গণফোরাম দেশব্যাপী যে নতুন সুস্থ ধারার রাজনীতির গণজোয়ার দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু করেছিলো, অনেক ভূলভ্রান্তি হয়েছে কিন্তু সেই লক্ষ্যে আজও আমরা অবিচল।

আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, এবি পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বাবুল সর্দার চাখারী, গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি মহিউদ্দিন আবদুল কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলু, ঢাকা জেলা সভাপতি হামিদ মিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাঠান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণফোরাম ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী। উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম, যুব গণফোরাম, ছাত্র ফোরাম ও মহিলা ফোরামের নেতারা।