বঙ্গবন্ধুর সব খুনিদের এখনো বিচার হয়নি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল তাদের মুখোশও উন্মোচন করে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। 

আজ মঙ্গলবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৫ আগস্টে জাতির পিতাসহ শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনা খুনি জিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশে ফিরেছিলেন। দেশকে বাঁচানোর সংগ্রামে কাজ শুরু করেন। এখনো অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময় যড়যন্ত্রকারীরা সরব হয়ে উঠেছে। তারা চায় না দেশ আত্মনির্ভরশীল হোক। 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তি দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা করছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের অনুসারী এখনো আছে। তারা '৭৫ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার' স্লোগান দেয়। এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। দেশকে ব্যর্থ করতে চায়, বাঙালি জাতিসত্তাকে বিনষ্ট করতে চায়। 

তিনি আরও বলেন, এরা নারীর ক্ষমতায়ন চায় না। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তারা শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে গ্রেনেড হামলা করে দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। ১৫ আগস্টের হামলাকারীরাই ২১ আগস্ট হামলা করেছিল। এখনো দেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। সকল যড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে হবে। জাতির পিতার আদর্শকে নিয়ে দেশকে রক্ষা করতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কৃষিবিদ মো. মশিউর রহমান হুমায়ুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষিবিদ মেজবাহ উদ্দিন, ডিএমপি কমিশনার কৃষিবিদ মোহা. শফিকুল ইসলাম, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের মহাসচিব কৃষিবিদ মো. খায়রুল আলম প্রিন্স। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। 

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় কৃষি নিয়ে ভেবেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র সারে তিন বছরে তার যে পরিকল্পনা ছিল সেগুলোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সমবায় ভিত্তিক কৃষিভাবনা দেশের কৃষিতে অনেক পরিবর্তন এনেছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন বই পড়তে হবে, বুকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে।