আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ও ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম অগ্রসর করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। 

নেতারা বলেছেন, সরকার তার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যাতে মানুষ সংগঠিত হতে না পারে, তার জন্য হামলা-মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। কিন্তু অতীতের শিক্ষা, ভয়ভীতির শাসন কখনো দীর্ঘায়িত হয় না। ভয় দেখিয়ে রাজপথের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। 

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সিপিবি'র পূর্বনির্ধারিত জনসভায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ-ওলামা লীগ-শ্রমিক লীগ ও পুলিশের হামলায় নেতাকর্মীদের আহত করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সিপিবি'র সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জুলফিকার আলী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা সীমা দত্ত, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নেতারা মানুষকে রাস্তায় নেমে এসে সরকারের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ। সরকারের ব্যর্থতার কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়লেও তার দায় চাপানো হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর। জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমলেও সরকার দাম পঞ্চাশ টাকা বৃদ্ধির পর পাঁচ টাকা কমিয়ে এবং বাসভাড়া পাঁচ পয়সা কমিয়ে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। সার ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে সরকার প্রমাণ করছে কৃষি ও কৃষকের কাছেও সরকারের দায়বদ্ধতা নেই। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পর এবার কথা বলার অধিকারও কেড়ে নিতে চাইছে।

সিপিবির সমাবেশে হামলার জন্য কলমাকান্দা থানার ওসিকে অপসারণ এবং ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানান নেতারা।