বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে? জনগণের উপর ভিত্তি নেই। কোন নিক্তি দিয়ে ওজন করবেন, সাহস নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়নের চাকা এগিয়ে যাচ্ছে, সেই চাকাকে স্থবির করার চেষ্টা করবেন না।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রয়াত সংসদ উপনেতা ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হঠাৎ করে আলাউদ্দিনের চেরাগ বাতিতে বা কোন জাদুতে হঠাৎ করে এই নারী ফুটবল দল চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করে নাই। ২০০৩ সালের কথা মনে করে দেখুন; ২০০৩ সালে আমাদের দেশের মহিলা ফুটবলরা যখন ফুটবল খেলছিল তখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায়। জামায়াত আর জঙ্গিরা বলেছিল যে, নারী ফুটবল খেলা বাংলাদেশে হতে পারবে না। হতে পারে কিন্তু ফুলপ্যান্ট আর হিজাব পরে খেলতে হবে। সেই নারী ফুটবলকে আমাদের নেত্রী প্রেরণা ও শক্তি দিয়েছেন। 

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্মরণসভা। 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী নানক বলেন, আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের সঙ্গে সুলতানা কামাল খুকীকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। সুলতানা খুকীকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে আনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু একটি বার্তা দিয়েছিলেন যে, নারী ক্রীড়াবিদরা, নারী খেলোয়াড়রা এগিয়ে যাও। তার কন্যা শেখ হাসিনাও সে পথে এগিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ দেশে এসেছে, আমরা অভিনন্দন জানাই। আর আমরা ধিক্কার জানাই, ওই বিএনপি-জামায়াতকে, যারা সেদিন নারীদেরকে পিছিয়ে দিতে হত্যার হুমকি দিয়েছেন জঙ্গিদেরকে দিয়ে।

নানক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব পাকিস্তানপ্রীতি ভুলতে পারেন না। কারণ, পাকিস্তানপ্রিয় একটি দল থেকে তার সৃষ্টি। তিনি পাকিস্তানপ্রিয় একটি দল খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই দলটির নাম হলো বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি)। এই বিএনপির স্রষ্টা ও পাকিস্তানের পাহারাদার ছিলেন খুনি জিয়াউর রহমান।


মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে নানক আরও বলেন, কী দিয়ে ওজন করেন? শেখ হাসিনা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে? জনগণের ওপর ভিত্তি নেই। কোন নিক্তি দিয়ে ওজন করবেন, আসেন? সাহস নিয়ে আসেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করুন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়নের চাকা এগিয়ে যাচ্ছে, সেই চাকাকে স্থবির করার চেষ্টা করবেন না।

সাজেদা চৌধুরী রাজনৈতিক জীবনের নানাদিক তুলে ধরে বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের প্রাণের নেত্রী। তিনি আমাদের প্রেরণা, আমাদের শক্তি ও সাহস ছিলেন।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্মরণসভা। 

মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে স্মরণসভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।