ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে বর্জন করেছেন বহিষ্কৃত নেত্রীরা। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ সময় তারা তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করা হলে ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ের আমরণ অনশনের হুমকি দেন।

সোমবার সকালে ইডেন কলেজ গেটে ‘বিনা তদন্তে বহিষ্কার, নৈপথ্যে কারা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ হুমকি দেন। এ সময় তারা সুষ্ঠু সমাধান না হলে সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কলেজে ঢুকতে পারবে না বলেও হুমকি দেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে বহিষ্কার আমাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হয়। আমাদের অপরাধ নির্যাতিত সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়ানো। অনতিবিলম্বে এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই। প্রত্যাহার করা হলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশনে যাব।’

তারা প্রশ্ন করেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি রোকেয়া হলের সামনে রোকেয়া হলের সাবেক এজিএস ফাল্গুনী দাস তন্বীকে মারধর করার পরও নিশিকে বহিষ্কার করা না হলে সভাপতিকে মারধরের ঘটনায় আমাদের বহিষ্কার করা হলো কেন? সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ, হাজার হাজার প্রমাণ এবং চাঁদাবাজির ভিডিও ও অধ্যক্ষ ম্যামকে নিয়ে কটূক্তি সত্ত্বেও তাদের কেন বহিষ্কার করা হল না?’

তারা বলেন, ‘গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আমরা ২৫ জন নেত্রী উপস্থিত ছিলাম, তবে শুধু ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির একজন নাম প্রত্যাহারের পরও অন্য কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না করে কোন তদন্তের ভিত্তিতে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে? দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শুধুমাত্র এক গ্রুপকে কেন অনিরপেক্ষভাবে বহিষ্কার করা হলো? এই স্থায়ী বহিষ্কারের পেছনে কারা আছে সে বিষয়ে সুষ্ঠু জবাব দিতে হবে। দুই রকম প্রেস বিজ্ঞপ্তির রহস্য উন্মোচন করতে হবে।’

তারা প্রশ্ন রাখেন, ‘কোনো ইউনিটে সমস্যা হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, কিন্তু আমাদের কেন সরাসরি বহিষ্কার? তাহলে কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের এই অন্যায়ের সঙ্গে সহমত পোষণ করছে?’

ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দলে গত দুদিন উত্তপ্ত ছিল ইডেন কলেজ ক্যাম্পাস। দুই পক্ষের সংঘর্ষে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন ওরফে রীভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাসহ অম্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় রোববার রাত দেড়টার দিকে ইডেন কলেজ কমিটি স্থগিত ও ১৬ নেতা-কর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

বহিষ্কৃত এক সহ সভাপতি সমকালকে বলেন, ‘আমরা ধানমন্ডি পার্টি অফিসের ভেতরে আমরণ অনশন করব। বহিষ্কৃত সব নেত্রী (১২ জন) এতে অংশ নেবেন। অন্য যে ৪ জনকে কর্মী বলে বহিষ্কার করা হয়েছে, এমন নামের কোনো ছাত্রলীগ কর্মী ইডেন কলেজে নেই৷’