বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের লাঠি নিয়ে আসার ঘটনাকে জনজীবনে অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। এই অশান্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে তারা। তবে বিএনপির কর্মসূচির বিপরীতে দলীয়ভাবে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আওয়ামী লীগে। এ জন্য দলের নেতাকর্মীদের আরও সংযত এবং সহনশীল থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা লাঠির উপরিভাগে বেঁধে আনছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাঠি হাতে নিয়ে নেতাকর্মী কেউ কেউ মারমুখো অবস্থানে থাকছেন। এর আগে বিএনপির কর্মসূচিতে এমন চিত্র না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে লাঠি হাতে নেতাকর্মীর উপস্থিতির ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনাও সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ সমকালকে জানিয়েছেন, কথিত আন্দোলনের নামে বিএনপি নানা প্রক্রিয়ায় সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে অবশ্যই দলীয়ভাবে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ঘেরাও করতে গেলে বিএনপি নেতাদের চা খাওয়ানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বিএনপি যদি অন্য কিছু করতে চায় তাহলে তো হবে না। তারা তো যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছে। তাদের মিছিলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। দুই-এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেটা আমলেও নেওয়া হয়েছে। এর সমাধানও হবে। আওয়ামী লীগও সহনশীল থাকবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীর লাঠি নিয়ে আসার বিষয়টি জনজীবনে অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র। এটা খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত। গ্রহণযোগ্যও নয়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেছেন, বিএনপির লাঠিমিছিলের বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে না। এমন কি একই দিনে একই সময়ে একই জায়গায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতেও যাবে না আওয়ামী লীগ।

প্রায় একই মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছেন, লাঠি নিয়ে মিছিল করাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যা করার তাই করবে। এ ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে কোনো ভূমিকা নেওয়া হবে না। তবে বিএনপির অশান্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। জাহাঙ্গীর কবির নানক আরও বলেছেন, বিএনপি আবারও নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া হবে না। তারা অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, হামলা, ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে সমুচিৎ জবাব দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেছেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে এটাই তো স্বাভাবিক। এতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কোনো কারণও নেই আওয়ামী লীগের। বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার কর্মসূচিকে স্বাগত জানাবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তারা সেটা করছে না। কর্মসূচিতে লাঠি এনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে জনজীবনে অশান্তি তৈরির পাঁয়তারা করছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আবদুর রহমান আরও বলেছেন, বিএনপির কথিত আন্দোলন মোকাবিলায় রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকবে আওয়ামী লীগ। তারা অশান্তির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি দেখার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারক নেতারা। তাঁরা সম্ভাব্য সকল ধরনের অশান্ত পরিবেশ মোকাবিলায় নেতাকর্মীকে রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সন্ত্রাস ও সহিংসতার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে রাজপথে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলারও তাগিদ দিয়েছেন নেতারা। একই সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষসহ অপ্রিয় ঘটনা এড়াতে নেতাকর্মীকে সব সময়ই আরও সংযত এবং সহনশীল থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।