আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠায় জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বড় দুটি দলের মারমুখী অবস্থান নানা অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে। সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন- নির্বাচন পর্যন্ত এ হামলা-পাল্টা হামলা, মামলা-হয়রানি কি চলতেই থাকবে? দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে যুক্তিসংগত কোনো সমাধানের পথ কি নেই? রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও বিশিষ্টজন বলছেন, এমন চলতে থাকলে দেশি-বিদেশি অপশক্তি ও মৌলবাদী উগ্রপন্থিরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে এবং ২০০৭-০৮ সালের মতো গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, সবার কল্যাণে এ সংকট থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং এর উপায় রাজনীতিবিদদেরই বের করতে হবে।

অবশ্য সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির দায় নিতে রাজি নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। চলমান সহিংসতার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছেন দল দুটির শীর্ষ নেতারা। এই সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরাও। এমন পরিস্থিতিকে সুষ্ঠু নির্বাচনে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন তাঁরা।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং কমনওয়েলথের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে দ্বিমত রয়েছে বিশিষ্টজনের। তাঁদের মত, বাইরে থেকে এসে সংকট সমাধানের উদ্যোগ কোনো কাজে আসে না। আবার কেউ বলছেন, প্রয়োজনে জাতিসংঘের মতো সংগঠনের সহায়তা চাওয়া যেতে পারে। ইতোমধ্যে সংস্থাটির বাংলাদেশের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। তবে বিশ্নেষক সবাই জোর দিয়ে বলেছেন, এখনই উচিত সংকট নিরসনে 'আলোচনার সূত্রপাত' করা। অনেকে বলেছেন, শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন দরকার। সংকটের স্থায়ী সমাধানে 'রাজনীতির গভীর সংস্কার' প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণ সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যৌক্তিক পথরেখা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। দৃশ্যকল্প বিবেচনায় নিলে যা সামনে আসে তা প্রথমত, বর্তমান পথরেখাকে অব্যাহত রাখা, যার সম্ভাব্য পরিণতি প্রত্যক্ষ 'কর্তৃত্ববাদ'। দ্বিতীয়ত, এই পথ থেকে সরে এসে একটি অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া, যা ক্রমান্বয়ে 'গণতান্ত্রিক উত্তরণ' ঘটাবে। এ ছাড়া বড় দুই দলকে ক্ষমতায় না থাকলেও স্বাভাবিক রাজনীতি চর্চার ভরসা পেতে হবে। এমন ভরসার জায়গা তৈরি করতে না পারলে 'ক্ষমতা হারানোর ভীতি' থেকে গণতন্ত্রের বিকৃতি চলতেই থাকবে।

বাংলাদেশ সফরে এসে সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরূকরণ ও উত্তেজনার আশঙ্কা দেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি শুধু নির্বাচন নয়; সব সংকট সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোসহ সমাজের সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সরকার, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নাগরিক সমাজ সবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার আরেক অনুষ্ঠানে নর্ডিক দেশের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী 'অবাধ ও সুষ্ঠু' নির্বাচন চেয়েছেন।

এসব বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, রাজনীতির অঙ্গন কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কারণ, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বলছে- এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে তারা নির্বাচনে আসবে না। তাদের এ যুক্তি তো বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

সংবিধানে সুস্পষ্ট আছে- সরকার থাকবে, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। সরকার রুটিন কাজ করবে। নির্বাচনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু বিএনপি তাদের দাবিতে অটল। তারা একই কথা বারবার বলছে। তারা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এর আগেও তারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। চলন্ত গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, সহিংসতা করে অযৌক্তিক দাবি আদায় করা যাবে না। কারণ, সংবিধানের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে।

তিনি বলেন, 'আমরা চেষ্টা করব সর্বশেষ দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থা অর্জন করানোর। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশনও আগামী ৮-৯ মাস তাদের সব তৎপরতা চালাবে। নির্বাচন হবে। নির্বাচন হতেই হবে। আমরা চেষ্টা করব সমঝোতার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস- নির্বাচনের জন্য একটা পর্যায়ে সমঝোতা হবে।'

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, সত্যিকারের যুক্তিভিত্তিক রাজনীতি গড়ে উঠতে পারে, যখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকে; যেখানে গণতান্ত্রিক চর্চা হয়। তিনি আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করে বলেন, নির্যাতন, দমন-পীড়ন, গুম-খুন, হত্যা, মিথ্যা মামলায় পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দেশ। এক রকম ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে বাংলাদেশ। এ রকম পরিস্থিতিতে যুক্তিবোধ কাজ করে না। তিনি বলেন, 'অথচ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। এখন সংসদে বিতর্ক হয় না। অথচ গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়েই সংকট সমাধানের পথ বের হয়। জবাবদিহি না থাকলে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত আসবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। নির্দলীয় সরকারের অধীনে চারটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে কারচুপি করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। আর এখন যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের তৈরি। তারা ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন দিক। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠিত হলেই এ সংকটের সমাধান হবে।'

নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চাঙ্গা করে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। যদিও তাদের সমমনা সরকারবিরোধী দলগুলোকে এখনও ঐক্যবদ্ধ করে শক্তভাবে মাঠে নামাতে পারেনি। যুগপৎ আন্দোলনের একটি রূপরেখা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। বর্তমানে নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে সাধারণ সভা-সমাবেশ করছে তারা। কিন্তু এসব সভা-সমাবেশ থেকেই শুরু হয়েছে রক্তারক্তি। সভা-সমাবেশে লাঠি নিয়ে হামলা, গুলি-টিয়ার গ্যাসের শেল; আবার প্রতিরোধে পাল্টা লাঠি নিয়ে সমাবেশে যোগদানের ঘটনায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। রূপরেখা ঘোষণার পর বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে মাঠে নামবে। অন্যদিকে আন্দোলন প্রতিহত করতে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। হুমকি-পাল্টা হুমকি দিয়ে দুই দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, 'রাজপথে খেলা হবে; খেলা'। দু'পক্ষের এই হুঙ্কারে সংঘাত ও সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃত্ববাদ ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দেশে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অহিংস আন্দোলনগুলোই অধিক মানুষকে যুক্ত করতে সক্ষম। এ দেশের ইতিহাসও সাক্ষ্য দেয় যে, সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই শুধু পরিবর্তন আনা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেয়ে দলীয় নেতাকর্মী বেষ্টিত হয়ে পেশিশক্তিনির্ভর আন্দোলনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

'গভীর সংস্কার' ও 'আলোচনার সূচনা' প্রয়োজন: সংকট থেকে উত্তরণে গভীর রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও বিশিষ্টজন। তাঁদের মতে, দেশে গণতন্ত্র কার্যকর করার ক্ষেত্রে বারবার সংকট দেখা দিলেও প্রকৃত অর্থে কোনো রাজনৈতিক সংস্কার করা হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করে নির্বাচনের সংকট ঠেকানো হয়েছিল মাত্র। কিন্তু রাজনীতির মূল সমস্যাগুলো সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখা আলোর ঝলকানি দেখালেও পরে এতে আর আগ্রহ থাকেনি। কোনো কোনো দল ওই রূপরেখাকে ছুড়ে ফেলেছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্নেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে বিরোধীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে। বাইরে থেকে এসে কেউ তো সংকট সমাধান করে দিতে পারবে না। নির্বাচনের এখনও অনেক দিন বাকি। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে। কীভাবে এই সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রণক্ষেত্র থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া যায়, তার খোঁজ অবশ্যই করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়, তখন কিছু সুযোগসন্ধানী লোক সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে রাজনীতিবিদদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক বলেন, কোনো সমস্যার যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করা প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, রাজনৈতিক সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ক্ষীণ। রাজনৈতিক আলোচনায় রাজনীতিবিদরা অতীতের ভুল-ভ্রান্তি মনে করিয়ে দিতেই প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং সেই ঈপ্সিত লক্ষ্যে কীভাবে পৌঁছানো যাবে, সে সম্পর্কে আলোচনা হয় না বললেই চলে। তবে এখন সময় এসেছে অতীতমুখী বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের রাজনীতি করা।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তিতর্কের অবতারণা করলে রাজনীতিতে একটা যৌক্তিক সমাধানের আবহ তৈরি হবে। জনগণও মূল্যায়ন করবে, কার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত এবং আস্থার জায়গায়।

সুজন সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ছাড় দিয়ে সমঝোতার ভিত্তি যুক্তিসংগত সমাধানের পথ হতে পারে। জাতীয় সংসদের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়ম-রীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করে এ সংলাপ হতে পারে। প্রয়োজনে জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার চলাফেরা, সভা-সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করা- সংবিধান অনুযায়ী এগুলো মৌলিক অধিকার। এগুলোতে বাধা দেওয়া সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের গোপন তথ্য সংগ্রহ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। এগুলো শুধু অযৌক্তিক নয়- ভয়াবহ। এগুলো কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার প্রতিফলন।

রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে সুজনের পক্ষ থেকে ২১ দফা 'জাতীয় সনদ' প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেন তিনি। সংগঠনটির দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, নির্বাচনকালীন সরকার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল, স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান, প্রশাসনিক সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষণ, একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক মানসিকতার অবসান, তরুণদের জন্য বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার সমকালকে বলেন, কোনো একটা সংগঠন যখন তাদের স্বাধীনতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারে, তখন বুঝতে হবে রাজনীতিতে সহাবস্থান বজায় আছে। পরমতসহিষুষ্ণতার সংস্কৃতিই দূর করতে পারে সংঘাত।