কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক এবার দুই মাস ২৯ দিন পর খোলা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৮টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম ফরহাদের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানসিন্দুক খোলা হয়।

এসব সিন্দুক থেকে টাকা বের করার কাজ শেষ হওয়ার পর মোট সাড়ে ১৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।

এর আগে সর্বশেষ ২ জুলাই  দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। তখন তিন কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখন দানসিন্দুক খোলার পর ১৬ বস্তা টাকা হয়েছিল। এবার উপচে পড়া ১৫ বস্তা টাকা হওয়ার কারণে গতবারের চেয়ে টাকার পরিমাণ বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

সাধারণত তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক খোলা হয়। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দানসিন্দুক খোলার সময়ের ব্যবধান বাড়ানো-কমানো হয়েছে। দানসিন্দুক ভরে যাওয়ায় টাকা ঢুকাতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই সিন্দুক খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবার ২ মাস ২৯ পর।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার দানসিন্দুক থেকে টাকা খুলে প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজ। বর্তমানে টাকা গণনার কাজ চলছে। 

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোহরা সুলতানা যূথী, মোছা. নাবিলা ফেরদৌস, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত উদ্দীন ভূঞা, রূপালী ব্যাংকের এজিএম মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ টাকা গণনার কাজ তদারকি করছেন। এছাড়া পাগলা মসজিদের সদস্য, সিনিয়র সিটিজেনসহ জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত রয়েছেন।

প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানসিন্দুকগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। এছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রও মসজিদটিতে দান করা হয়। সাধারণের বিশ্বাস, খাস নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর লকডাউনের সময়ে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল সীমিত করে দেওয়া হয়। তখনকার পরিস্থিতিতেও মসজিদটিতে মানুষ দান অব্যাহত রাখেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সাথে সাথে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও। মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবন। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদটিকে ঘিরে চলছে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ। এছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়। বর্তমানে পাগলা মসজিদকে একটি অন্যতম আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, ১২০ কোটি টাকায় একটি আধুনিক স্থাপত্যে ৩০ হাজার মুসুল্লি একসাথে নামাজ আদায়ের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।