দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করবে কিংবা অভিপ্রায় ব্যক্ত করবে তাদেরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতারা। তারা বলেন, বিএনপির তৃণমূল কখনো 'বেঈমানি' করেনি। কেন্দ্রীয় কিছু নেতা লোভে পড়ে বিগত দিনে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এবার যদি একইরকমভাবে কেউ ভুল করার সাহস দেখায়, তাহলে তাকে অপমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা এসব কথা বলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন ভার্চুয়ালি। 

জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বলেন, ওয়ান ইলেভেনে দলের 'বেঈমানরা' সক্রিয় না হলে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। ২০১৪ সালের 'নির্বাচন ঠেকাও আন্দোলন' যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু বিশ্বাসঘাতকের প্ররোচণায় বিএনপির হাইকমান্ড আন্দোলন থামিয়ে দেন। ২০১৮ সালেও নির্বাচনেও দলের মধ্যে কিছু লোভি ছিল। যারা ক্ষমতাসীন দলকে বিশ্বাস করে শুধু নিজেদের আসন নিশ্চিত করে পুরো দলকে নির্বাচনে নিয়েছিল। নির্বাচনে তারা নিজেরা ডুবেছে, দলকেও ডুবিয়েছে। কিন্তু এবার যদি আর কোনো 'বেঈমানের' আবির্ভাব ঘটে তাহলে তার বিচার দলের হাইকমান্ড নয়, তৃণমূল নেতাকর্মীরা যেখানে পাবে সেখানে করবে।

তারা বলেন, সারাদেশে নেতাকর্মীদের এবার বাঁচা-মরার লড়াই। হয় জিততে হবে, নয় মরতে হবে। এই মন্ত্র নিয়ে সবাইকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এ আন্দোলন সফল করতে কেন্দ্রের নেতাদেরকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বেরিয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।

সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক শক্তিতে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড বিভাগীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এই মুহূর্তে কার পদ আছে, কার পদ নেই, কে উপরে, কে নিচে কিংবা কে মূল্যায়িত হন নাই সেসব নিয়ে কোন্দল করা যাবে না। আগে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

সভায় আগামী ১০ বিভাগীয় গণ-সমাবেশ সফল করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন দলের হাইকমান্ড। এর মধ্যে প্রত্যেক থানা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে পথসভা, কর্মীসভা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন দলের শীর্ষ নেতারা।

গত বুধবার ১০ সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা দেয় বিএনপি। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এই সমাবেশ শুরু হবে। শুরুর দিন চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং সবশেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে সমাবেশ। সভায় সাংগঠনিক বিভাগে ঘোষিত সমাবেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি চায় বিএনপি হাইকমান্ড। এজন্য নানা দিক-নির্দেশনা দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগরে কোনো কোন্দল থাকলে তা সমাধানের ওপর জোর দেন হাইকমান্ড। সমাবেশে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে যা যা করার দরকার, তা করতে নেতাদের নির্দেশও দেন।