গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে সরকার নতুন নতুন নাটক তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বহু ঘটনা, উত্থান-পতন, বহু নির্যাতন-নিপীড়ন দেখেছেন। নতুন নাটক দেখলেন আদালতপাড়া থেকে জঙ্গি ছিনতাই হয়ে যাওয়া। এসব নাটকের উদ্দেশ্য হলো চলমান আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের ডা. জাহিদ-উর রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'সরকার আবার শুরু করেছে পুরোনো খেলা। ককটেল ফাটাতে দেখেনি কেউ, তবে মামলা দিয়েছে পুলিশ। বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা, কিন্তু সাক্ষী কিছুই জানেন না। কারণ ককটেলের কোনো শব্দই হয়নি। কারওয়ান বাজারে দেড়শ জনকে আসামি করে ককটেল ফাটানোর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ রকম ৯৬টি গায়েবি মামলা হয়েছে, সাড়ে চার হাজার আসামি এবং আরও ১০ হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি। অর্থাৎ তাদের সেই পুরোনো খেলা শুরু হয়েছে- ঘটনা ঘটাব আমরা, আর মামলা খাবে তোমরা।'
তিনি বলেন, এ অবস্থা পরিবর্তনে আন্দোলনই একমাত্র পথ। নির্বাচন আর কখনোই আওয়ামী লীগের অধীনে হতে পারবে না। অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। এখন আওয়ামী লীগ দেশের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে গেছে। এই বোঝা যদি কাঁধ থেকে সরাতে না পারি সবাই ডুবে যাব।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আওয়ামী লীগের সামনে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নেই। আসুন সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আইএমএফ এসে রিজার্ভের ব্যাপারে সরকারের থলের বিড়াল বের করে দিয়েছে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, এর সামনে সরকারের হম্বিতম্বি টিকবে না। নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরাম, মোমিনুল ইসলাম প্রমুখ।