কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ শনিবার। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকেই চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশস্থল কান্দিরপাড় টাউনহল মাঠে আসতে শুরু করেছে। যদিও জেলা প্রশাসন থেকে শর্ত দেয়া হয়েছিল সমাবেশ শুরুর আগে কাউকে সমাবেশস্থলে প্রবেশ না করা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের অন্তত ১৫ মিছিল প্রবেশ করেছে টাউনহল মাঠে। এদের মধ্যে অনেকেই সেখানে রাতে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা দলে দলে মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করছেন। অনেকেই চাটাই ও পলিথিন বিছিয়ে মাঠেই শুয়ে পড়েছেন। চাঁদপুর থেকে আসা রমিজ উদ্দিন, রনি, কাজী নাঈম, নেছার, সজিব ও রাকিব নামের যুবদল কর্মীরা বলেন, সকল প্রস্তুতি নিয়ে তারা মাঠে এসেছেন, সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের একদল নেতাকর্মী রাত সাড়ে ৯ টায় টাউনহল মাঠে প্রবেশ করেছেন।

সালেহ আকরাম ও রুবেল মিয়া বলেন, আমরা কুমিল্লার সমাবেশে যোগ দিতে এসেছি। রাতে এখানেই থাকছি। সবাই মিলে ব্রাজিলের খেলা দেখার ব্যবস্থা করতে নেতাদের অনুরোধ জানিয়েছি।

ভিন্ন কথা বলেন কুমিল্লার বরুড়া থেকে আসা বিএনপি নেতা নোমান হোসেন মৌলভী। তিনি বলেন, যদি চাঁদপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নেতাকর্মীরা আমাদের আগে আসেন তাহলে তাদের আপ্যায়ন কে করবে ? তাই আমরা আগেই এসেছি। 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন,  যতো নেতাকর্মীই সমাবেশস্থলে আসুক সমস্যা নাই, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাত ৯টার পর থেকে কর্মীরা মাঠে প্রবেশ করছে।

বিএনপি নেতা কাউসার জামান বাপ্পী বলেন, ‘আমরা নেতাকর্মীদের আগ্রহ দেখে এটা নিশ্চিত এ সমাবেশ হবে কুমিল্লার স্মরণকালের বড় সমাবেশ। দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সকল প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, কুমিল্লা উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর এবং চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫টি ইউনিট নিয়ে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুমিল্লার পাশাপাশি চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নেতৃবৃন্দ আগে থেকেই তাদের ‘প্লেস’ নির্ধারণ করে রেখেছেন। সুতরাং কেউ আগে চলে আসলেও তাদের থাকা-খাওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও ১০/২০ হাজার মানুষের খাওয়া ও নাস্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাস-আগ্রহ দেখে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, কুমিল্লার গণসমাবেশ সফল ও সার্থক হবে। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু দুই দিন আগে কুমিল্লায় এসেছেন। তিনি সমাবেশের সকল প্রস্তুতি নিয়ে দফায় দফায় নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,  কুমিল্লার এ সমাবেশ একটা ইতিহাস হবে। এটি হবে কুমিল্লার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশ। এই সমাবেশে যোগ দেবে লাখ লাখ মানুষ। আগত নেতাকর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের থাকার সমস্যা তাদের থাকার ব্যবস্থাও করেছি।