বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনবিস্ফোরণ দেখে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নিঃশব্দ পরিবেশ সৃষ্টি করতেই বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে স্তব্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আর সে জন্যই তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কবজায় নিয়ে বিএনপি এবং বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও মানবিক কর্মসূচির ওপর বেপরোয়া হামলা শুরু করেছে।

আজ রোববার বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। পাবনার ঈশ্বরদীতে ১২ কৃষককে কারাগারে পাঠানো, নেত্রকোনার বারহাট্টায় বিএনপির পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বোরো ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে সরকারি দলের লোকদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি এ বিবৃতি দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘকাল ভোগ করার বাসনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাগামহীনভাবে বাধা প্রদান করছে। সরকারের মদদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীকে হত্যা, গুরুতর আহত, বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার এবং বিএনপির শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ পণ্ড করাকে নিত্যদিনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একদিকে অবৈধ সরকারের লুটেরা বাহিনী লুণ্ঠন করে বিদেশে বিপুল অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ছে, অন্যদিকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করা দেশের কৃষকদের ওপর চলছে সীমাহীন জুলুম ও অত্যাচার। কৃষকরা এখন অভাব ও দেনার দায়ে জর্জরিত। ক্ষোভ-হতাশা ও বঞ্চনায় তাঁরা আত্মহত্যাও করছেন। বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত নয় বলেই জনস্বার্থের কোনো দাবি বা অধিকারকে পরোয়া করে না। সরকার এখন পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন। তবে শত বাধা ও জুলুম-নির্যাতন চালিয়েও বর্তমান সরকার জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে পারবে না। ন্যায়সংগত আন্দোলনকে দমাতে পারবে না। সরকারের পতন অনিবার্য।