আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালালে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা হামলা করা হবে।

মঙ্গলবার নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আমাদের দেশেও সেভাবেই হবে। সংবিধান অনুযায়ী এই সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। সরকার রুটিন মাফিক দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।

ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, খেলা হবে, ডিসেম্বর মাসে খেলা হবে। আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদ ও আগুন-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে খেলা হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নেত্রকোনায় এসে দেখে যান সম্মেলনে মানুষের ঢল কাকে বলে। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। এই দলের শিকড় অনেক গভীরে। ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। কয়েকটি সমাবেশ করে বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর হুমকি দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ নির্বাচনে পরাজিত করতে পারবে না। বিগত দিনে বিএনপি ভোট চুরি করেছে, কারচুপি করেছে। দেশের মানুষ আর এদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়র রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর পরিচালনায় এ ছাড়া বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া প্রমুখ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে তিন বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুর রহমান লিটনের নাম ঘোষণা করা হয়।