বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের স্থান নিয়ে সরকার দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা শুরু করেছে। এই সমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে রাজশাহী ও ঢাকায় গণসমাবেশ সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

গত সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির সভায় এসব কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় বলা হয়, গণআন্দোলন দমন করার জন্য অবৈধ সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য নেতাকর্মীর বাড়ি তল্লাশি ও হয়রানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ছয় শতাধিক নেতাকর্মী। মামলা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার।

দেশের অর্থিক খাতে দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সভায় বলা হয়, গত এক যুগে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কাগুজে কোম্পানিকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিকল্পিতভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। সভায় সামগ্রিক আর্থিক খাত নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নয়াপল্টনেই গণসমাবেশ হবে: মির্জা আব্বাস

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নয়, নয়াপল্টনেই বিএনপির গণসমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, নয়াপল্টনে অনেক সমাবেশ হয়েছে। এমন কী অসুবিধা হবে যে ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নয়াপল্টনে করা যাবে না!

তিনি আরও বলেন, সরকার বিএনপি নেতাকর্মীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকার বাইরে থেকে লোকজন আসবে। এ জন্য যা করা দরকার, সব করা হবে।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগের গণসমাবেশ সফল করার জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা উপকমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপকমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. শাহজাহান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা খায়রুল কবীর খোকন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, বেনজীর আহমেদ টিটো, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক প্রমুখ।