আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর যখন চলে যাবে, জানি অবরোধ দেবেন, ধর্মঘট দেবেন। জানি, আবারও আগুন-সন্ত্রাস শুরু করবেন, আবারও লাঠিখেলা করবেন। আর আমরা কী বসে বসে ললিপপ চুষব?

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না। সংবিধান পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধানকে অনেক কচুকাটা করেছেন। আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘাতকদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। সংবিধানে হাত দেওয়ার অধিকার কারো নেই। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে দিবাস্বপ্ন; রঙিন খোয়াব দেখে লাভ নেই।

পল্টনে বিএনপির জনসভা করতে চাওয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কেন সোহরাওয়ার্দী মাঠকে বাদ দিয়ে পল্টনে জনসভা করতে চায় তার কারণ আমরা সকলেই জানি। গত নির্বাচনের আগেও তো বেগম জিয়া সেখানে সভা করেছিলেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চান না? ধরা পড়ে গেছেন, ধরা পড়ে গেছেন! স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আপনার মধ্যে নেই, তা আবারও প্রমাণিত হলো। এ কারণেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাচ্ছেন না মির্জা ফখরুলরা।

তিনি বলেন, যারা ভোট চুরি করে তারাই আবার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার কথা বলে। ঢাকা শহরের বড়লোকদের বাড়ির সামনে লেখা থাকে 'কুকুর হতে সাবধান' আর গ্রামের নিরীহ মানুষ বলে 'বিএনপি থেকে সাবধান'। বিএনপিকে বর্তমানে কেউ বিশ্বাস করে না।

গণমাধ্যমের সমালোচনা করে কাদের বলেন, আমরা এত বড় বড় জনসভা করি, কিন্তু কিছু গণমাধ্যম ওভাবে সংবাদ করে না। এখানে ফখরুল দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিলে পুরো ছবিসহ কোনো কোনো গণমাধ্যমে যেত। যারা আমারে পছন্দ করেন না, তাদেরকে আমি বলেছি- আমরা বেশি চাই না। আমাদের ন্যায্য কাভারেজ দেন। 

তিনি আরও বলেন, কেন এত বৈরিতা? আমি জানি না। একদিনও কারো বিরুদ্ধে কিছু বলি নাই। কারো নাম বলি নাই। আমার ভাইকে নিয়ে প্রতিদিন 'ডাবল কলামে নিউজ' হতো। আমার ক্ষতি করার জন্য। কী অপরাধ করেছি আমি? এখন তো কোম্পানিগঞ্জে সবাই ঐক্যবদ্ধ। এখন তো নিউজ দেন না।

বিএনপির সমাবেশে পরিবহন বন্ধ না করতে পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, এখনই শুনলাম বিএনপির নেতাকর্মীরা বিছানা, বালিশ, শীতের কম্বল, সঙ্গে মশার কয়েল নিয়ে তাঁবু  গেড়েছে। এত আগে আসার কী রকার? তত্ত্বাবধায়ক আর হবে না, সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আমি পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের অনুরোধ করেছি তারা যেন গাড়ি বন্ধ না করে। তারাও বলেছে গাড়ি বন্ধ করবেন না। ছাত্রলীগের সঙ্গেও যেন কোনো কিছু না ঘটে সেজন্য ছাত্রলীগের সম্মেলন এগিয়ে আনা হয়েছে। ছাত্রলীগ বিএনপির ধারে-কাছেও যাবে বলে তিনি জানান।

ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।