নতুন করে সংকট সৃষ্টি না করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, অংশগ্রহণের মাধ্যমে আসুন আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াই করি। আশা করছি বিএনপি নতুন করে কোনো সংকট তৈরি করবে না। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে নতুন কমিটির সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আপনারা (বিএনপি) শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবেন। অস্তিত্বের জন্য নির্বাচনে আসতেই হবে। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। আসুন, আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করবো। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, অবাধ হবে। দু’দিন আগে গাইবান্ধায় যে উপনির্বাচন হয়েছে, এ রকম সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে। কেউই হস্তক্ষেপ করবে না।

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা 

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শুধু শুধু দেশের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন? দেশের মানুষকে, ভোটারদের শাস্তি দিচ্ছেন কেন? আন্দোলনের নামে আজকে আপনারা এই যে বাস পোড়ানো, সামনে আপনাদের আরও ভয়ঙ্কর প্রোগ্রাম আছে বলে আমরা শুনি। এসব করে দেশের সংকটের সময় আরও নতুন সংকট ডেকে এনে দেশের মানুষকে বিপদে জর্জরিত করা থেকে আপনাদের বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন। আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য, দেশে কেন সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করে, যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটা ডেড ইস্যু, সেটাকে আবার জীবিত করতে হবে?

তিনি বলেন, পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর কোথাও এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাই। এই অসাংবিধানিক অস্বাভাবিক সরকার আমরা চাই না। বাংলাদেশের জনগণ এই অস্বাভাবিক সরকার চায় না। যেভাবে পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও ঠিক একইভাবে নির্বাচন হবে। সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সরকার শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন রুটিন দায়িত্ব পালন করবে।

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, এটা চ্যালেঞ্জিং বছর। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২২তম সম্মেলন করেছি। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আপনারা জানেন, মেট্রোরেলের ফার্স্টফেজ, পদ্মাসেতু উদ্বোধন হয়েছে। কর্ণফুলী টানেলও উদ্বোধনের পথে। শত সেতু করেছি, শত রাস্তা করেছি। সামনে অনেক কাজ আছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিমুখে আমরা এগিয়ে যাবো- এটাই আমাদের অঙ্গীকার।