খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, সুন্দর নগর গড়তে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দেখভাল করার দায়িত্বও জনগণের। কোথাও কাজ খারাপ হলে মেয়রকে জানান। সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিধি মেনে বাড়ি নির্মাণ করুন, আইন মেনে বর্জ্য অপসারণ করুন। এই নগরী সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে।

বুধবার দুপুরে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে নাগরিক ফোরাম, খুলনা মহানগর আয়োজিত নাগরিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সুশাসন উন্নয়নে জনসম্পৃক্তকরণ প্রকল্পের পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নাগরিক ফোরাম, খুলনা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম, দি এশিয়া ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর আইনি ইসলাম ও প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড কোয়ালিট কন্ট্রোল ডিরেক্টর মীর জুনায়েদ জামাল।

স্বাগত বক্তব্য দেন নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সেলিনা আক্তার পিয়া। তিনি ৩১টি ওয়ার্ডের নাগরিক ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পরিচয় করিয়ে দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন রূপান্তর-এর কর্মসূচি সমন্বয়কারী অসীম আনন্দ দাস। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ফোরামের সদর থানা সভাপতি মনির আহমেদ, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি ইসরাত আরা হীরা, খালিশপুর থানা সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান জমাদ্দার, দৌলতপুর থানা সভাপতি সৈয়দ নওশাদুজ্জামান পল্টু, খানজাহান আলী থানার সভাপতি মো. শাহজাহান হাওলাদার।

জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। এর পরে শহীদ হাদিস পার্কে নাগরিক ফোরাম স্থাপিত খুলনা সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল সিটিজেন চার্টার উদ্বোধন করা হয়।

সিটি মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুলনা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছেন। এই টাকায় সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। করোনার কারণে দুই বছর উন্নয়ন কাজ বন্ধ ছিল। খুলনা নগরীতে বর্তমানে ২০০টি রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। একসাথে নগরী জুড়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলার কারণে নগরবাসীকে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে এই দুর্ভোগ লাঘব হবে। নগরীতে এক শ্রেণির ধনী মানুষ নির্মাণ আইন না মেনে বাড়ি তৈরির কারণে উন্নয়ন কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। 

সিটি মেয়র বলেন, খুলনায় ৩৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজে ১০০ একর জমি কেনার জন্য জেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যেই টাকা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য থেকে জ্বালানি, সার ও ডিজেল উৎপাদিত হবে। বর্জ্য পরিণত হবে সম্পদে।