ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

এবি পার্টির ওয়েবিনার

লকডাউন তুলে সবাইকে টিকা দেওয়ার দাবি

লকডাউন তুলে সবাইকে টিকা দেওয়ার দাবি

ওয়েবিনারে অতিথিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২১ | ১০:১৬

এবি পার্টির উদ্যোগে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যালাচনা ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা প্রসঙ্গে দাবি উত্থাপন করতে এক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়েবিনারটি বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে সাড়ে ৫টায় শেষ হয়। এতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ, মনোবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী, নারী সংগঠক, মানবাধিকারকর্মী, প্রবাসী নাগরিকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা যুক্ত হন।

এবি পার্টির আহ্বায়ক সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার।

সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মোজাহেরুল হক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, গণফোরাম নেতা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মহসীন রশিদ ও এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু।

ড. মোজাহেরুল হক বলেন, কভিডের ভারতীয় ধরন আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কভিড নিয়ন্ত্রণের একটি বৈজ্ঞানিক উপায় ছিল লকডাউন, কিন্তু আমাদের দেশে যে লকডাউন চলছে, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। লকডাউন ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে না পারা। এ ধরনের মহামারি থেকে রক্ষা পেতে প্রধান কাজ ছিল জনগনকে সচেতন করা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী তাদের সম্পৃক্ত করা। কিন্তু সরকারের একগুঁয়েমি ও গোয়ার্তুমির জন্য করোনা প্রতিরোধক সব কার্যক্রমে জনসাধারণ সম্পৃক্ত হয়নি। এখন একটিই উপায় রয়েছে, বয়স ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বিবেচনায় সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, লকডাউনের নামে যে অব্যবস্থাপনা সরকার করেছে, একবার গাড়ি বন্ধ, একবার খোলা। শ্রমিকরা ঈদে বাড়ি গেল, তারা আসবে কীভাবে। হঠাৎ গাড়ি বন্ধ রেখে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ডাকা চরম অমানবিক। এ লকডাউন করোনা কমাতে নয়, তা বৃদ্ধিতেই ভূমিকা রাখছে। কাজেই এখনই সবাইকে টিকার আওতায় আনার দাবি আমাদের জোরালো করতে হবে। টিকা নিয়েও সরকার নানা টালবাহানা করছে, রাশিয়া ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বল্প ব্যয়ে টিকা দিতে আগ্রহী হয়েছিল, কিন্তু সরকারের টালবাহানায় সেটাও পাওয়া সম্ভব নয়।

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এ সরকার গডফাদার আনুকূল্যের সরকার। বৈষম্যের চরম অবস্থা তারা সৃষ্টি করেছে। দেশের অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে সর্বপ্রথম উচিত ছিল শ্রমজীবী মানুষদের টিকার আওতায় আনা এবং কর্মজীবী মানুষদের দু’বেলা দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্সদের ঝুঁকি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা।

তিনি বলেন, টিকা সরবরাহে সরকার একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে, কোনো কোম্পানির কমিশনের দিকে না তাকিয়ে, যদি জনগণের দিকে তাকাত তাহলে আরও অনেক বেশি টিকা সাশ্রয়ী মূল্যে সংগ্রহ করে জনসাধারণকে দেওয়া যেত। ব্যক্তি বিশেষের অর্থলোভে জনসাধারণের আজকের এ চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, কভিড নিয়ে জনগণকে সরকার সচেতন করতে পারেনি, লকডাউনও ব্যর্থ হয়েছে। এই সময়ে এসে লকডাউন আর কার্যকর হবে না। এখন সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, টিকার কোনো বিকল্প নেই। ধারাবাহিকভাবে ঝুকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত, বয়স ইত্যাদি বিবেচনায় অতিদ্রুত সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, কয়েক বছর লাগবে কভিড থেকে স্বাভাবিক হতে। কাজেই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি জানিয়ে সরকারকে বাধ্য করতে হবে সবাইকে টিকার আওতায় আনার জন্য।

সভাপতির বক্তব্যে এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, দেশে এক করুন অবস্থা বিরাজ করছে। অব্যবস্থাপনার কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা দেশের কৃষক, শ্রমিক, ডাক্তার, আইনজীবীসহ সব নাগরিককে টিকার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সরকার সঠিকভাবে এগোলে আমরাও স্বেচ্ছাসেবীর মতো দেশের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। তিনি অংশগ্রহণকারী সব অতিথিকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।

আরও পড়ুন

×