ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

আ. লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ বেশি কষ্ট পাবে: ফখরুল

আ. লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ বেশি কষ্ট পাবে: ফখরুল

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ০৬:০৪ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ০৬:০৪

আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের মানুষ আরও বেশি কষ্ট পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এখন ডান, বাম সবাইকে এক হয়ে এই দানব সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সৈনিক জীবন থেকে রাষ্ট্রনায়ক জিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও জেডআরএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপকমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেভিসি অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দার, অ্যাব-এর সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, বিএমএর সাবেক মহাসচিব ডা. গাজি আবদুল হক, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল করিম, জেডআরএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. পারভেজ রেজা কাকন এবং ঢাবি ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেডআরএফের ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ডা. মাসুদ আখতার জীতু, অধ্যাপক ডা. সহিদুর রহমান, ডা. সাজিদ ইমতিয়াজ, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, সানোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আসিফ হোসেন রচি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ফখরুল ইসলাম রবিন, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আরিফা সুলতানা রুমা, সানজিদা ইয়াসমিন তুলি প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম তার লেখা বইয়ে বলেছেন, যদি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড ’৮১-তে না হয়ে ৭৫-এ হতো তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা হতো আফগানিস্তানের চেয়ে ভয়াবহ! সেসময় রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছিলো। ৪০ হাজার তরুণ কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে সে সময়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারা সামাল দিতে না পেরে দেশে একদলীয় বাকশাল শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলো।’

তিনি বলেন, ‘পরে জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু দুঃখজনক যে তাকে আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই হারিয়েছি। তিনি কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। দেশকে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দেশের স্বাক্ষরতা হার বৃদ্ধি, নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন। আজ দেশের উন্নয়নের কথা বলা হয়। কিন্তু দেশের সকল উন্নয়নের ভিত রচনা করেছেন জিয়া।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ওপর চেপে বসা দানব সরকার সমাজ ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে। ইতিহাস ঐতিহ্য সম্প্রীতি সব নষ্ট করে দিচ্ছে। আজ দেশের নাগরিক হয়ে কেনো তার ধর্মীয় দিবস উদযাপন করতে পারবে না। সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব করছে। তারা ‘৭৫ সালে গণতন্ত্র নিজ হাতে হত্যা করে আবার গণতন্ত্রের কথা বলছে। আজকে দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা আমরা চাইনি। আমরা স্বাধীন দেশে নাগরিক হয়ে থাকতে চাই।’

গয়শ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যেখানে ব্যর্থ, সেখানে জিয়ার সফল উত্থান হয়েছিল। তিনি জেনেশুনে আই রিভোল্ট বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বিশ্বের সব বিপ্লবের সঙ্গে একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব থাকে। যা জিয়ার ছিলো। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মধ্যে সবাইকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি দেশের সমৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। আজকে মানুষ না খেয়ে মরছে না বলা হয়। তবে গুম হয়ে মরে ঠিকই।’

তিনি বলেন, ‘জিয়া ছিলেন জনগণের। তার মতো সততা, দেশপ্রেম, সাহসের সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। তিনি দেশে একটা জাগরণ তৈরি করেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশবাসী জেগে উঠেছিলো। দেশের সকল উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণকে সম্পৃক্ততা করেছিলেন তিনি।’

আরও পড়ুন

×