রমজানের পণ্যে সয়লাব চট্টগ্রাম বন্দর

খালাসের অপেক্ষায় ১২ জাহাজ, পাইপলাইনে আছে আরও ১০টি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

রমজান সামনে রেখে চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ থেকে নৌকায় করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা-মো. রাশেদ

রমজান সামনে রেখে চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ থেকে নৌকায় করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা-মো. রাশেদ

রমজানের পণ্যে সয়লাব এখন চট্টগ্রাম বন্দর। করোনা আতঙ্কের মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে পণ্য এসেছে এবার। ছোলা, পেঁয়াজ, তেল, চিনি, খেজুরসহ ১৬ লাখ ৮১ হাজার টন পণ্য এসেছে গত মাসে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৫ লাখ ৮৯ হাজার টন। খালাসের অপেক্ষায় এখনও প্রায় পাঁচ লাখ টন ভোগ্যপণ্য বোঝাই ১২টি জাহাজ ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আগামী ২০ দিনে রমজানের পণ্যবোঝাই আরও অন্তত দশটি জাহাজ বন্দরে আসার কথা। পাইপলাইনে থাকা এসব জাহাজের পণ্যও রমজানের মধ্যে খালাস হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বিপুল পরিমাণে পণ্য আমদানি হওয়ায় এবারের রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকার কথা। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুতি নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রমজানে পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের।

জানতে চাইলে চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, 'করোনা আতঙ্কের মধ্যেও অনেক পণ্য এসেছে দেশে। এগুলো স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চাহিদা মতো পরিবহনের যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। আবার প্রশাসনেরও বিধিনিষেধ আছে। তার পরও বাজার স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। প্রশাসন ও ব্যবসায়ী উভয়কেই এখন গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করতে হবে।'

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, 'গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় এ বছরের মার্চ মাসে রমজানের পণ্য তুলনামূলকভাবে বেশি এসেছে। গত মাসে রমজানের পণ্য এসেছে ১৬ লাখ ৮১ হাজার টন। কিন্তু গত বছরের একই সময় যা ছিল ১৫ লাখ ৮৯ হাজার টন। আগামী ২০ দিনের মধ্যে আরও কিছু জাহাজ আসার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে।'

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত বছরের মার্চে অ্যাডিবয়েল এসেছে দুই লাখ ৩২ হাজার টন। কিন্তু করোনা আতঙ্কের মাঝেও এবার একই সময়ে এসেছে দুই লাখ ৫০ হাজার টন। চিনি তৈরির কাঁচামাল গতবারের মার্চে তিন লাখ ৫৯ হাজার টন এলেও এবার এসেছে চার লাখ ৫২ হাজার টন। একইভাবে গত বছরের মার্চে সয়াবিন দুই লাখ ১৯ হাজার টন ও গম পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টন এলেও এবার এসেছে যথাক্রমে দুই লাখ সাড়ে ২১ হাজার ও ছয় লাখ ১৭ হাজার টন। তবে গতবারের তুলনায় এ বছরের মার্চে কিছুটা কম এসছে মটর ডাল। গতবার এক লাখ দুই হাজার টন মটর ডাল এলেও এবার এসেছে ৮৯ হাজার ৮০০ টন।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এখন ভোগ্যপণ্য বোঝাই ১২টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে আছে মসুর ডাল, গম, ছোলা ও সরিষা। চিনি আছে একটি জাহাজে। আগামী ২০ দিনে চট্টগ্রামে রমজানের পণ্যবোঝাই আরও অন্তত দশটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

এদিকে রমজানকে কেন্দ্র করে পণ্য আমদানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অফিস-আদালত, কলকারখানা বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলেও নেমে এসেছে একপ্রকার স্থবিরতা। যদিও পণ্য পরিবহন ও চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

বন্দর খোলা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে পণ্য খালাস হচ্ছে না। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হলে বন্দর থেকে খালাস করে নিতে হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। সক্রিয় রাখতে হবে টিসিবির কার্যক্রমও। আসন্ন রমজান জুড়ে টিসিবি পণ্য সরবরাহ করবে বলে এরই মধ্যে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফলে বন্দর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য দ্রুত খালাস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্নিষ্টরা।