চট্টগ্রামে আদালতে ভাড়াটিয়া আসামি নাজমার জবানবন্দি

বাড়িওয়ালাকে ফাঁসাতে ট্যাংকিতে ফেলে শিশুকে হত্যা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

 নাজমা বেগম

নাজমা বেগম

নগরের বাকলিয়া থানার আলোচিত আরাফ হত্যা মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন নাজমা বেগম নামে এক আসামি। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে আসামি নাজমা জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আসামি কুমিল্লার মুরাদনগরের বাখরনগরের আউয়াল ভুইয়া বাড়ির তাজুনুর ইসলাম প্রকাশ বাবুলের স্ত্রী। 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রঊফ সমকালকে বলেন, আসামি নাজমা আক্তার যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেই বাড়ির মালিককে ফাঁসাতে গিয়ে শিশু আরাফকে হত্যা করেছেন। আর্থিক সংকট থেকেই নাজমা এ পথে গেছেন বলে জানিয়েছেন। আদালতে জবানবন্দি দিয়ে তিনি সব অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন।

বাকালিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, শিশু আরাফ হত্যার পর নাজমাকে ৯ জুন কোতোয়ালী থানার মনোহরখালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে খুন করার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। 

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি নাজমা বেগম জানান, তার তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। দুই মেয়েই গার্মেন্টেসে কাজ করে। এক ছেলে হাসান দারোয়ান ও অন্য ছেলে ফিশারীঘাটে মাছের  দোকানে কাজ করে। তিন বছর ধরে আসামির স্বামী তাজুল ইসলাম বাবুল হার্নিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ। স্বামীকে প্রাইভেট হসপিটালে অপারেশন করিয়ে সুস্থ করতে তিন লাখ টাকা সুদের উপর ধার করতে হয়। সুদের কিস্তির টাকাসহ সংসার পরিচালনা করতে গিয়ে দিনে দিনে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তার উপর গত তিন মাস যাবৎ লকডাউন শুরু হলে মেয়েদের গার্মেন্টেসের চাকরি চলে যায়। ধার দেনা করে কোন রকমে সংসার চালানোর চেষ্টা করে। এলাকায় বিভিন্ন মানুষ নয় লাখ টাকা পাওনা। এই টাকা পরিশোধ করার কোন উপায় তার কাছে নেই। 

নাজমা বেগম আরও বলেন, তার ছেলে হাসান মালিকের বিল্ডিংয়ের  দারোয়ানের হিসেবে কাজ করে। মালিক তার ছেলেকে দারোয়ানের চাকরিতে খাটিয়ে ঠিকমত বেতন দিতেন না। বেতনের কথা জিজ্ঞাসা করলে ভবনের মালিকের সাথে নাজমার ভুল বুঝাবুঝি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির মালিককে শিক্ষা দিতে গিয়ে ওই ভবনের এক ভাড়াটিয়ার শিশু সন্তান আরাফকে পানির টাংকিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে নাজমা।

বাকালিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর নাজমা বেগম স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। তাকে গ্রেফতারের পর হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। খুনের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।