চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড

লকডাউন এলাকার জন্য ৭ নির্দেশনা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রাম নগরের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনী। লকডাউন এলাকার জন্য ৭টি নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। তবে এই ওয়ার্ডের একাংশে অবস্থিত সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় কারিগরি জাতীয় কমিটি দেশের যেসব এলাকা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রামের ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০ নম্বর ওয়ার্ডও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ওয়ার্ডগুলোও লকডাউন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,  লকডাউন চলাকালীন রেডজোন ঘোষিত এলাকায় প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। প্রধান সড়কে কোন প্রকার যাত্রী ওঠা-নামা চলবে না, তবে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলবে। লকডাউন করা এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য সিটি কর্পোরেশনের একাধিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মহল্লা ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী টিম কাজ করবে। যেকোনো প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরগুলো হচ্ছে- ০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২ এবং মোবাইল ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪, ০১৮১১-৮৮৭০৮৪।

লকডাউনের আওতাধীন এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, অফিস, কল-কারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বন্ধ থাকবে। তবে সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। লকডাউনের আওতাধীন এলাকাবাসী ২১ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, ওষুধপত্র ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে রাখতে পারবেন। হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে সামর্থ্যবানদের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যানে বা ই-কমার্সের আওতায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও জরুরি ওষুধ ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা হবে।

লকডাউন এলাকায় কোনোভাবেই ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করে করোনা মহামারিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোন ধর্মীয় উপাসনালয়ে না গিয়ে নিজ নিজ ঘরে প্রার্থনা বা উপাসনা করতে হবে। সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কোভিড ও নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা ও হাসপাতালে পাঠানোর জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে।

লকডাউন এলাকায় অবস্থানকারী সব সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তারা যাতে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ভ্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যারা এলাকায় এলাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করবে। এলাকার নিম্মবিত্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও  করা হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (বিশেষ শাখা) আবদুল ওয়ারীশ সমকালকে বলেন, ‘লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এই ওয়ার্ডের ২০টি প্রবেশ পথ রয়েছে। ১৪টি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ৬টি পথ জরুরি প্রয়োজনে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য খোলা রাখা হলেও তা সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবে। এছাড়া ওয়ার্ডের ভেতরে লোকজন যাতে অযথা ঘর থেকে বের না হন সেজন্য সার্বক্ষণিক টহল থাকবে।’