অন্ধ সমালোচনা গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ''অবশ্যই সরকারের ভুল যে কেউ ধরিয়ে দিতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এটি থাকতে হবে। আমরা সেটিতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, সমালোচনা কাজ করার ক্ষেত্রে সহায়ক। কিন্তু অন্ধের মতো সমালোচনা বা 'যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা' সেই মনোবৃত্তি থেকে সমালোচনা গণতন্ত্রের জন্য কখনো সহায়ক নয়।'' 

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে করোনাকালে সাংবাদিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

হাছান মাহমুদ বলেন, 'আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে করোনা মোকাবিলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো পর্যন্ত করোনার কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে কম, ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক কম। আমরা যদি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারতাম, মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে অন্তত বেশি হতো।'

উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য সবাই মিলে এই মহামারি মোকাবিলা করে দেশ ও অর্থনীতিকে রক্ষার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। 

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে'র সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বিএফইউজে'র যুগ্ন মহাসচিব মহসিন কাজী প্রমুখ। 

হাছান মাহমুদ বলেন, 'করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতে চট্টগ্রামে চিকিৎসাক্ষেত্রে নানা সমস্যা ছিল। আমি তিনবার এসে এখানে মিটিং করেছি। চট্টগ্রামের প্রশাসন ও সব মন্ত্রী-এমপিরাও ছিলেন। পরিস্থিতি দু'মাস আগে যা ছিল তারচেয়ে এখন অনেক ভালো। এখানে ইউএসটিসির বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে সাংবাদিকদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'  

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সহায়তা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি আমাকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এজন্য প্রথমে আমরা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অব্যয়িত অর্থ থেকে আরও ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'  

তিনি বলেন, 'সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর তারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, কারা সহায়তা পাবেন। সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোই তালিকা করেছে। যারা ইউনিয়নের বাইরে আছেন তাদের জন্য ডিসির সুপারিশ নিয়ে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রথম দফায় ১ হাজার ৫০০ সাংবাদিককে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। সেখান থেকে চট্টগ্রাম থেকে ২৫০ জন সাংবাদিক সহায়তা পাচ্ছেন। আর অসহায়-দুঃস্থদের মধ্যে এবারে যারা বাদ যাবেন তারা পরবর্তীতে সহায়তা পাবেন।' 

নবম ওয়েজবোর্ড যাতে ঘোষণা না করা হয় সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দু'টি মামলা হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'তথ্যসচিব দুই মামলাতেই আসামি। প্রথম মামলা করা হলো যে, তথ্য মন্ত্রণালয় এটা করার অধিকার রাখে না। পরবর্তীতে করা হলো, আগের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটা করা যাবে না। এটা ঘোষণা করাই একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। পত্রিকার সম্পাদক-মালিকপক্ষের নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল তারা সেভাবে আসেনি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।' 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'করোনাকালে বিভিন্ন মিডিয়ার মালিকপক্ষকে প্রথম থেকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম যাতে কোনো সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুত করা না হয় এবং পাওনা যাতে পরিশোধ করা হয়। এরপরও অনেক জায়গা থেকে অনেকে মানবিকতা দেখাতে পারেননি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।'