গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার নামে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন প্রতারক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মোহাম্মদ লিয়াকত আলী। নিজেকে পরিচয় দেন কোরআনের হাফেজ হিসেবে। কোরআনের মাধ্যমে নাকি দেন সব সমস্যার সমাধান। অথচ কোরআনের কোন অর্থই বুঝেন না তিনি। তবুও সরল বিশ্বাসে মানুষ ছুটে আসেন তার কাছে। দিব্যি চোখে দেখলেও মানুষের সমীহ পেতে সেজে থাকেন অন্ধ। দিনের পর দিন মানুষ প্রতারিত হয়ে আসলেও মুখ খোলেননি কেউ। এবার এক নারীকে গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন ৬৫ লাখ টাকা। আরও টাকা হাতানোর ফন্দি ফিকির করায় ওই নারী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। অবশেষে পুলিশের দ্বারস্ত হন তিনি। বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার লিয়াকত আলী বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের পাইরাং গ্রামের জাকির আহম্মদের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচলাইশ থানার রহমান নগর আবাসিক এলাকার রোকেয়া করিম নামে এক নারী লোকমুখে শুনেন তার ছেলের সংসারের অশান্তি দূর করতে লিয়াকত আলীর দ্বারস্ত হন। তিনি দাম্পত্য কলহ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। রোকেয়া করিম এতে রাজি হয়ে যান। পরে কয়েক দফায় টাকা নিয়ে রোকেয়া করিমকে বিভিন্ন দোয়া-দরুদ শিখিয়ে দেন ওই প্রতারক। এক পর্যায়ে রোকেয়া করিমকে জানান, তিনি কোরআনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন তার দেবরের জায়গায় মাটির নিচে স্বর্ণের পাতিল রয়েছে। সেটা সে পাইয়ে দিতে পারবে। যার মূল্য হতে পারে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা। পেলে অর্ধেক তিনি নেবেন, অর্ধেক রোকেয়া করিমকে দেবেন। স্বর্ণের পাতিলের লোভে পড়ে যান ওই নারী। স্বজনদের কাছে বিষয়টি গোপন করেন। স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে ভাগাভাগির চুক্তি হয়। স্বর্ণের পাতিল পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক দফায় ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক লিয়াকত আলী। দীর্ঘদিনেও স্বর্ণের পাতিল না পাওয়ায় ওই নারী টাকা ফেরত চাইলে আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন লিয়াকত। নইলে তার ছেলের অমঙ্গল হবে বলে ভয়ভীতি দেখান। এক পর্যায়ে ওই নারী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। গত ১২ জুলাই পুলিশের দ্বারস্ত হন তিনি।  

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূঁঈয়া বলেন, ‘গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার নামে এক নারীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। টাকা উদ্ধার করা না গেলেও দুজনের মধ্যে হওয়া চুক্তির স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। টাকা নেওয়ার কথাও অনায়েসে স্বীকার করেছে সে। টাকাগুলো দান করে ফেলেছে বলে দাবি করেছে ওই প্রতারক। তবে আমরা জানতে পেরেছি টাকা পাওয়ার পর এক নারীকে বিয়ে করে সে। তাকে ফ্ল্যাট কিনে দিতে ৪০ লাখ টাকা দেয়। টাকা পাওয়ার পর ওই নারী তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়।’