ভারতে গত এক দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও এক লাখ ৬১ হাজার ৭৩৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যা মহামারিতে বিশ্বের যে কোনো দেশের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ। এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। এদিন করোনায় মারা গেছেন আরও ৮৭৯ জন। করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৫৮ জন। এর মধ্যে ভারতের মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে ভারতের অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়।

ভারতের মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক, দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাকসিনের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগের মুখে তার জোগান বাড়াতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও পাঁচটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী কোম্পানি থেকে টিকা নেবে ভারত। টিকাগুলো হচ্ছে- স্পুটনিক-ফাইভ, জনসন অ্যান্ড জনসন, নোভাভ্যাপ, জাইডাস ক্যাডিলার ভ্যাকসিন ও ভারত বায়োটেকের ইন্ট্রান্যাজাল। ভারতে আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই টিকাগুলোকে 'নিয়ন্ত্রিত জরুরি প্রয়োগের' জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য এবং ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটিতে টিকা গ্রহণের পর রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটায় জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দান স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত জনসনের ৬৮ লাখের বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গুরুতর রক্ত জমাট বাঁধার ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার 'দ্য ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজেস' ও 'দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ' নামের দুটি জার্নালে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন কিছুটা বেশি সংক্রামক এবং এর পুনরুৎপাদন হার করোনার অন্যান্য ধরনের চেয়ে বেশি। তবে এতে আক্রান্ত রোগীর অসুস্থতা গুরুতর নয়। এই বিশেষ ধরনটির নাম হলো বি১১৭। বর্তমানে করোনার এই ধরন ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

দুটি গবেষণাপত্রের একটিতে ৩৪১ জন করোনা রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অন্যটিতে মোট ৩৬ হাজার ৯২০ জন ব্রিটিশ নাগরিকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বি১১৭-এর পুনরুৎপাদনের হার করোনার অন্যান্য ধরনের তুলনায় ১ দশমিক ৩৫ গুণ বেশি। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের ক্ষেত্রে রোগের গুরুতর অবস্থা সৃষ্টির কোনো প্রমাণ মেলেনি। খবর এনডিটিভি, আলজাজিরা, বিবিসি ও এএফপির।


মন্তব্য করুন