চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন খালে থাকা সব বাঁধ ৩০ জুনের মধ্যে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাশাপাশি পলিথিনের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালানোরও ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

সোমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কনফারেন্স হলে নগরীর জলবদ্ধতা নিরসনে সব সেবা সংস্থার সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

এত সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সভার সভাপতি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নগরীতে চলমান জলবদ্ধতা মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে আশা করা যায়। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখনো খালে অস্থায়ী বাঁধ আছে। চউক কর্তৃপক্ষ তা সরাচ্ছে।’

মেয়র নগরীর জলবদ্ধতার জন্য কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং না হওয়া, নদী খালে পলিথিন ফেলাকে দায়ী করেন। তিনি পলিথিন উৎপাদন বন্ধে চসিকের উদ্যোগে অভিযান শুরুরও ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম বলেন, ‘খালে কাজের জন্য যে বাঁধ দেয়া হয়েছে তা ৩০ জুনের মধ্যে অপসারণ হবে।’

সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালের মাস্টার প্ল্যানের পরিকল্পনা নেয়ার ক্ষেত্রে করপোশনের মতামত না নেওয়া হলে এখন নিতে হবে। তা না হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।’

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) জলাবদ্ধতা নিরসর মেগা প্রকল্পের ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনসট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর পঙ্কজ মল্লিক জানান, বারবার সব সংবাদ মাধ্যমে মেগা প্রকল্প বলা হলেও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজে চউক কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়েছে ৩ হাজার ৮ শত ৪০ কোটি টাকার। এর মধ্যে চউক পেয়েছে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। ৩৬ টি খালের মধ্যে চউক অর্ধেক খালের কাজ করেছে। বাকি অর্ধেক খালের কাজ এখনো বাকি। ড্রেনের কাজ হয়েছে মাত্র ২৬ কিলোমিটার।

২০১৬ এর ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেই নগরীতে জলাবদ্ধতা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।

তিনি সচিত্র প্রতিবেদনে কর্পোরেশনের করা জলাবদ্ধতা নিরসনে সম্পন্ন হওয়া ড্রেনের কাজ ও সম্ভাব্য পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

এতে করপোরেশন ১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করেছে বলে উঠে আসে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকার কাজ করেছে। নগরীতে ১৩ খালের সাথে সমুদ্রের সংযোগ ও ১০ টি খালের সাথে কর্ণফুলী নদীর সংযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর বলেন, জলকপাট নির্মাণে আমরা ৬০ কোটি টাকার মধ্যে ৪০ কোটি টাকা পেয়েছি। আর জলকপাট নির্মাণের পর যেহেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চসিকের তাই আমরা যাবতীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে পারি। এ ব্যাপারে সিডিএ, করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা দরকার।