কক্সবাজারে ১৩ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে তিন পুলিশ পরিদর্শক, এক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। 

বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

শরীফ উদ্দিন সমকালকে জানান, তিন পুলিশ পরিদর্শক ঘটনার সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মরত ছিলেন। আসামিদের মধ্যে এক পরিবারের ১০ জন সদস্য রয়েছেন।

দুদকের মামলার আসামিরা হলেন- পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন, পরিদর্শক প্রভাষ চন্দ্র ধর, পরিদর্শক এসএম মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন, রোহিঙ্গা পাসপোর্ট পাওয়া আসামি মো. তৈয়ব, তার তিন ভাই মোহাম্মদ ওয়াসেস, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ রহিম, তৈয়বের স্ত্রী নুর হামিদা, সন্তান আব্দুর রহমান, আব্দুস শাকুর, নুর হাবিবা, বোন আমাতুর রহিম, ভগ্নিপতি নুরুল আলম ও বোনের তিন ছেলে মেয়ে আসমাউল হুসনা, আমাতুর রহমান ও মো. ওসামা। 

আসামি রুহুল এখন আমিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত), প্রভাষ চন্দ্র ধর রংপুর ডিআইজি অফিসে, মিজানুর রহমান পটুয়াখালী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে পরিদর্শক এবং মোজাম্মেল হোসেন কুমিলার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন সমকালকে জানান,  একটি রোহিঙ্গা পরিবার কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে  দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছিলেন। এই পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট, স্মার্টকার্ড পেয়েছেন। পরে মিয়ানমার থেকে পরিচিত জনদের নিয়ে এসে পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতেও সহায়তা করেছেন। 

শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা পরিবারটির সদস্যদের পাসপোর্ট পেতে পুলিশ জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই সহায়তা করেছেন। তারা নির্বাচন কমিশনের অনিবন্ধিত ল্যাপটপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করেছেন।’

মামলায় এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গা তৈয়ব পরিবারের সদস্যের পাসপোর্ট আবেদনে ভেরিফিকেশন করে মিথ্যা রিপোর্ট দেওয়ায় তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছেন। পুলিশ যাচাইবাছাই ছাড়াই প্রতিবেদন দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পেতে সহযোগিতা করেছেন। 

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুদক রোহিঙ্গাদের হাতে পাসপোর্টের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তখনই পুলিশ অভিযুক্ত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বাতিলের জন্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। 


বিষয় : রোহিঙ্গা দুদক

মন্তব্য করুন