চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কর্মী কোহিনূর হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি কুলসুমা জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় তার যাবজ্জীবনের রায় আসার পর প্রতিবেশী ও তার দুই পরিচিত জনের সহযোগিতায় মিনু আক্তারকে বদলি আসামি হিসেবে জেল পাঠানো হয়েছিল। 

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দীন সমকালকে জানান, দুই দিনের রিমান্ড শেষে রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন কুলসুমা আক্তার। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এসব তথ্য দিয়েছেন তিনি।

ওসি নেজামউদ্দিন বলেন, হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কুলসুমা আক্তার সাজাভোগ থেকে বাঁচতে ফন্দি আঁটেন। সহযোগিতা চান প্রতিবেশী মর্জিনা আক্তারের। দুজনে মিলে নুর আলম কাওয়াল ও শাহাদাত হোসেন নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে দেড় লাখ টাকায় চুক্তি করেন। নুর আলম কাওয়াল ও শাহাদাত হোসেন মিনু আক্তারকে কুলসুমা সাজিয়ে জেলে পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। এতে সায় দেন কুলসুমা। 

কোহিনূর হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেন ও নুর আলম কাওয়াল  

এরপর চারজন মিলে টাকার লোভ ও এক মাসের মধ্যে জামিনে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিরাপরাধ মিনু আক্তারকে কুলসুমা সাজিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠান। 

গত বৃহস্পতিবার কুলসুমা আক্তার ও তার সহযোগী মর্জিনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে গত শুক্রবার ও রোববার সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল সলিমপুর কালাপানিয়া দরবেশ নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর আলম কাওয়াল ও শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

শাহাদাত হোসেনকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্য তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে পোশাক কর্মী কোহিনুর আক্তার পারভীন হত্যাকাণ্ডে এক বছর চার মাস জেল খাটেন কুলসুমা আক্তার। জামিনে বেরিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর আদালতে হাজিরাও দেন তিনি। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বরে কোহিনুর আক্তার হত্যায় আদালত কুলসুমার যাবজ্জীবন সাজা দেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, মিনুকে জেলে পাঠালেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা দিতে না পারায় আত্মগোপনে চলে যান কুলসুমা ও মর্জিনা। জঙ্গল সলিমপুরে থাকা তাদের দুইটি প্লট দখলে নেন শাহাদাত হোসেন ও নুরু কাওয়াল। পরে নিরপরাধ মিনু আক্তারের বিনা দোষে জেল খাটার বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে এ বছরের ১৬ জুন তাকে মুক্তি দেন আদাল। 

মুক্তির ১৩ দিন পর রহস্যজনকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার এক সন্তানকেও হারান তিনি।