সোমবার থেকে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলো খুলেছে। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শুরু হল পাঠদান কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে লম্বা বিরতির পর কলেজের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও প্রাণ ফিরে এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে। 

স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ও সরকারি নির্দেশনা মেনেই এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। প্রথম দিনের শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার সন্তোষজনক বলছেন তারা। 

খোলার প্রথম দিনেই গতকাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) এমবিবিএস প্রথম বর্ষ (২০২০-২১), দ্বিতীয় বর্ষ (২০১৯-২০), পঞ্চম বর্ষ (২০১৬-১৭) ও বিডিএস প্রথম বর্ষ (২০১৯-২০), দ্বিতীয় বর্ষ (২০১৮-১৯) এবং শেষ বর্ষের (২০১৬-১৭) শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে। 

চমেক ছাড়াও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নার্সিং কলেজ ও ইনষ্টিটিউট, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ইউএসটিসির ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড হেলথ সায়েন্সেস, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ, মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজে পাঠদান ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। 

অনেকদিন পর স্বশরীরে প্রিয় আঙ্গিনায় আসতে পেরে আনন্দে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার সমকালকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দুই হাত জীবাণুমুক্ত করে ও শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেই কলেজে প্রবেশ করানো হয়েছে। সবার মুখে ছিল মাস্কও। প্রথমদিনে সশরীর ক্লাসে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছেন।’ 

তিনি জানান, গত শনিবার চমেকের ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সব ধরণের ব্যবস্থায় নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্লাস সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও প্রাণ ফিরে এসেছে ক্যাম্পাসে।’ 

ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আমির হোসাইন বলেন, ‘কলেজ খোলার প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। সকল শিক্ষার্থীদের মাস্ক পড়া নিশ্চিত করা হয়েছে।’