চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচ শ্রমিককে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম নগরে আংশিকভাবে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক-শ্রমিকরা। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন রুটে বাস, টেম্পু ও হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে কর্মস্থলগামী লোকজন ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত বুধবার দুপুরে নগরের অলঙ্কার মোড়ে পরিবহনের লাইনম্যান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে পাঁচ পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন- মো. আজাদ, মো. অহিদ, মো. আরিফ হোসেন, নারায়ন দে ও মো. সিদ্দিক হোসেন। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির ২১ হাজার ৮২০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাহাড়তলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম ইউসুফ সমকালকে বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে তথ্য পাচ্ছিলাম নগরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নগরের অলঙ্কার এলাকা থেকে পাঁচজন চিহ্নিত চাঁদাবাজকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করি। তাদের কাছ থেকে চাঁদার অর্থও উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিবহনে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে তারা। এর জের ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনদুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য কিছু পরিবহন বন্ধ রেখেছে। আমরা তাদের দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ 

এদিকে আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পড়ে কর্মস্থলগামী লোকজন। বিভিন্ন মোড়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষমান মানুষের জটলা। বাড়তি ভাড়া গুনে কেউ কেউ সিএনজি অটোরিকশায় কর্মস্থলে গিয়েছেন। কিছু পরিবহন চলাচল করলেও সেগুলোতে ছিল মানুষের ভিড়।

নগরের হামজারবাগের বাসা থেকে সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন নিজামপুর কলেজের শিক্ষক ফরহাদ উদ্দিন। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন মুরাদপুর থেকে বাসে জিইসি যাই। সেখান থেকে বাস কিংবা টেম্পুতে একেখান পর্যন্ত যাই। আজকে (বৃহস্পতিবার) অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও গণপরিবহন না পেয়ে মুরাদপুর থেকে একেখান পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় যেতে হয়েছে। এ জন্য বাড়তি ভাড়াও গুনতে হয়েছে।’


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদ বলেন, ‘লাইনম্যান অফিসে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা চাঁদাবাজির পক্ষে নই। কিন্তু বিভিন্নস্থানে লাইনম্যানের মাধ্যমে কিছু খরচ তোলা হয়। যাচাইবাছাই ছাড়া এভাবে পরিবহন শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করা হলে এর একটা প্রভাব পড়ে।’

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে কয়েকজন শ্রমিককে গ্রেফতারের পর শ্রমিক নেতারা ধর্মঘটের কথা বলেছিলেন। এরসঙ্গে অনেকে একমত হয়েছেন, অনেকে হননি। তাই গাড়ি চলাচল কেউ বন্ধ রেখেছে, কেউ চালাচ্ছে। নগরের একেকটি রুটে অনেক সংগঠন এখানে কারও একক নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে আমরা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই।’  

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) তারেক আহমেদ বলেন, ‘লাইনম্যানের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটা অভিযান হয়েছে র‌্যাবের। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দেখছি রাস্তায় গণপরিবহন কিছুটা কম। তবে তারা কোনো ধর্মঘটের ঘোষণাও দেয়নি। এক্ষেত্রে আইন আইনের গতিতেই চলবে।’