চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় এবার ১ হাজার ৯৬৪টি দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৫৫৩টি সার্বজনীন এবং পারিবারিক ৪১১টি মণ্ডপভিত্তিক। 

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সোমবার সন্ধ্যায় দেবীর বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া পূজার পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন শুক্রবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত জানান, করোনার সংক্রমণ রোধে গত বছরের মতো এবারও উৎসব পরিহার করে মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপিত হবে দুর্গাপূজা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা আয়োজনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির সঙ্গেও পৃথক সভা করা হয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে সভায় জানানো হয়েছে। 

সব উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জরা পৃথক সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন। 

গত ৬ অক্টোবর বোয়ালখালীর মেধস আশ্রমে মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে জেলাব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। 

পূজামণ্ডপে আগত সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করতে হবে। মণ্ডপের প্রবেশমুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান-পানি রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বাহির হওয়ার ব্যবস্থা রাখা, আতশবাজি বা পটকা ফুটানো পরিহার করা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা, বিদ্যুতের জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা এবং শুক্রবার বিকেলের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে আয়োজকদের প্রতি সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানানো হয়।  

এসময় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন না দিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান পরিষদের নেতারা।  

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সব উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে একটি মডেল মন্দির নির্মাণ, দুর্গা পূজায় চারদিন সরকারি ছুটি, দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে আইনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি জানান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব। 

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য জানান, এবার মহানগরে ১৬টি থানায় ব্যক্তিগত, ঘটপূজাসহ ২৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মেধ্য উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক নারায়ণ চৌধুরী, বিপুল দত্ত, বিজয় কৃষ্ণ বৈষ্ণব, বিশ্বজিৎ পালিত, উত্তম শর্মা, কল্লোল সেন, অধ্যাপক শিপুল দে, সাগর মিত্র, রিমন মুহুরী, সুভাষ চৌধুরী, দোলন মজুমদার, রাজীব শীল, কাজল শীল প্রমুখ। 

বিষয় : চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ মেধস আশ্রম

মন্তব্য করুন