চট্টগ্রামে সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটকে ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতমূলক দাবি করে আদালতে নারাজি দাখিল করেছেন বাদী। আদালত বাদীর সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

রোববার চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালত এ নির্দেশ দেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নারাজি আবেদনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার আশরাফ উদ্দিন রনি সমকালকে বলেন, ‘সাংবাদিক সরোয়ারকে অপহরণের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ দায়সারা তদন্ত করে অপহরণের কোন আলামত পাননি বলে চার্জশিটে জানায়। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর তারা জামিনে চলে যাওয়ার পর তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা। এরকম অসংখ্য ত্রুটি রয়েছে তদন্তে। এটি একটি চরম দায়সারা চার্জশিট ও পক্ষপাতমূলক তদন্ত হওয়ায় আমরা পুলিশের তদন্তে অনাস্থা এনে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করার আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শুনানি শেষে রোববার মামলাটি পুনঃতদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

২০২০ সালের ৪ নভেম্বর অপহরণের শিকার সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার নিজে বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে। 

এর মধ্যে ২৭ ও ২৮ বছর বয়সী দুজনের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। যাদের একজন মোটরসাইকেল চালক ও অপরজন মোটরসাইকেলের পেছনে ছিলেন। 

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন,  নিউজ করার কারণে তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয়। 

রোববার দুপুর দুইটায় আজকের সূর্যোদয় চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার এবং অনলাইন পোর্টাল সিটি নিউজ বিডি ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক গোলাম সরোয়ার সংবাদ সম্মেলন করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কারা আমাকে অপহরণ করেছে তা বলতে পারছি না, তবে অপহরণের আগে আমি পাঁচ-সাতটা নিউজ করেছি। ঘটনার কয়েক দিন আগে একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে বলে, ‘ওয়া নিউজগান গরি ভালা ন গরো।’ 

অপরিচিত নম্বরের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'আমার মোবাইলের কল লিস্ট সঠিকভাবে চেক করে ও তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। অপহরণকারীরা আমাকে ভীষণ মারধর করে কাপড় মুড়িয়ে দিয়ে, তাদের মধ্যকার ফোনে কথাবার্তায় বলে আমি নাকি ‘ত্যানাফাটা'’ সাংবাদিক, আমাকে মেরে ফেলে লাভ নাই শুধু যেন মারধর করে।’ 

সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার মামলা করলে সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন।

গত ২৯ অক্টোবর সকালে নগরীর ব্যাটারি গলির বাসা থেকে বের হয়ে সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার অপহৃত হন। এরপর গত ১ নভেম্বর রাত ৮টায় সীতাকুণ্ড উপজেলার স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মহাসড়কের পাশে অজ্ঞান অবস্থায় পরে থাকা নিখোঁজ সাংবাদিক সরোয়ারকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।