দেশে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে উপমহাদেশে বিপর্যয় ‘অনিবার্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগীপাহাড় মোড়ে সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘পুলিশ বিডিআরের ওপর নির্ভর করে হামলা থেকে রক্ষা মিলবে না। সকল রাজনৈতিক দল, দেশপ্রেমিক জনগণ, ধর্মপ্রাণ আলেম ওলামা, পুরোহিত, যাজক সংঘবদ্ধভাবে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু কথার কথা হলে ভবিষ্যতের বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। ৭৫ এর পর বাংলাদেশকে পাকিস্তান হতে দেখেছি। বাংলাদেশ যেন আবার আফগানিস্তান না হয়। দেশের দুই কোটি মানুষকে বিপর্যয়ে রেখে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু প্রতিবেশি দেশে সংখ্যালঘু নয়। সব ধর্মের মানুষের সহ অবস্থান যদি দেশে রাখতে না পারি তাহলে উপমহাদেশে বিপর্যয় অনিবার্য।’

‘সাম্প্রদায়িকতা নিপাত যাক-মানবতা মুক্তিপাক’ স্লোগানে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপ ও বাড়িতে হামলা, হত্যা এবং প্রতিমা ভাংচুরের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে তখন এই প্রতিবাদে দাঁড়াতে হচ্ছে। আজকের দিনে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে কিন্তু এটা বঙ্গবন্ধুর দল নয়। দলে অনেক মোশতাক। মুজিব কোট গায়ে দিয়ে পাকিস্তানি প্রেতাত্মার সাথে মেলবন্ধন করে এ হামলাগুলো করা হয়েছে। গোটা বাংলাদেশের বিভীষিকা নতুন করে বলার নেই। গোটা সমাজে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়েছে। বাংলাদেশিও আছে পাকিস্তানিও আছে। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টি হতভাগ্য জনগণের কাছে পৌঁছায় না।’

এই সমাবেশে যোগ দিয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি সত্যিকারের অসা¤প্রদায়িক সংবিধান হতে হবে। যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকে তবে অন্যরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। যদি বলেন সবাই নাগরিক তবে তো রাষ্ট্রধর্ম থাকতে পারে না। কোনো উন্নত রাষ্ট্রে তা নেই। কয়েকটি দেশে আছে। রাষ্ট্রধর্ম প্রত্যাহার করুন।’

সমাবেশে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ঢুকে পড়েছে। ১০ বছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াজ মাহফিলের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, অন্য ধর্মকে হেয় করে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না। ১০ বছর পরেও ওয়াজ মাহফিলে টার্গেট করা হয় হিন্দু ধর্ম, নারী ও বিজ্ঞানকে। ১৯৪৭ থেকে হিন্দুদের ওপর বারবার হামলার প্রধান কারণ সম্পত্তি দখল। জাগতিক বস্তুগত লাভের কারণে। ঘটনার সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দল মিলেমিশে যায়। সমাজে যে দূষণ তা সরাতে একদিনে হবে না। মাদ্রাসার সিলেবাস বদলাতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা উদার মানবিক বহুত্ববাদি করতে হবে। সমাজের পচন ঠেকাতে শেষবারের মত বড় রকমের ধাক্কা দিতে হবে যা হল সামাজিক আন্দোলন।’

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী নেতা ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান সঙ্গীতশিল্পী কল্পনা লালা, জাসদ নেতা জসিম উদ্দিন বাবুল, চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি শৈবাল চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, নূরজাহান খান, রাশেদ হাসান ও শরীফ চৌহান।