সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়াতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দাড়ারহাট অধিকারি পাড়ায় ধূপের আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে স্বার্থান্বেষী মহল।

সোমবার রাতে দাড়ারহাট অধিকারি পাড়ায় কলা পাকানোর জন্য দেওয়া ধূপের আগুন থেকে কলা ব্যবসায়ী পরিমলের দুটি ঘর পুড়ে যায়। পরিমলের ঘর পোড়া নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। গুজব ছড়ানো হয়েছে অগ্নিসংযোগ বলে।

পরিমলও জানিয়েছেন, ধূপের আগুনে তার ঘর পুড়েছে। দুই-তিন বছর ধরে কলার ব্যবসা করে আসছেন তিনি। কলা পাকানোর জন্য ধূপের আগুন দেওয়ার সময় অসাবধানতায় আগুন ধরে যায়। পরে দেবীগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।

সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক গ্রুপে ও পেজে আগের ঘটনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে উসকানি দিচ্ছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুকে নতুনভাবে গুজব আকারে ছড়াচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে সাইবার পুলিশ।

সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্নেষক অধ্যাপক জিয়া রহমান সমকালকে বলেন, ফেসবুক বা ইউটিউবে নানা ধরনের গুজব ভাইরাল হচ্ছে। যারা এ ধরনের কাজ করছে তারা থেমে নেই, একের পর এক গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রতিরোধ করার কী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এটাও কিন্তু একটি পলিটিক্যাল ইস্যু।

তিনি বলেন, গুজবের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে হবে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করলে এ ধরনের কাজ থেমে থাকবে না। গুজবের কারণে যারা ভুক্তভোগী হচ্ছে, তাদের রক্ষার জন্য জনমত তৈরি করা অতি জরুরি। সামাজিক শক্তি এবং রাজনৈতিক শক্তি এগিয়ে না এলে সবাইকেই ঘটনার শিকার হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কৌশল এবং দক্ষতা বাড়াতে হবে।