চট্টগ্রামের শীর্ষ ঋণখেলাপিদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থঋণ আদালত। মঙ্গলবার প্রচারিত আদেশে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ নির্দেশ দেন। 

আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও পুলিশ অধিকাংশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় মামলায় জট তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করেন আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে, শীর্ষ ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে এই আদালত থেকে ইস্যুকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো যথাসময়ে তামিল হচ্ছে না। এ কারণে দায়েরকৃত মামলা যথাসময়ে নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। 

অন্যদিকে, ঋণখেলাপিদের গ্রেপ্তার না করায় বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। তাই এই আদালত থেকে ইস্যু করা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন থানাগুলোতে পেন্ডিং থাকা ওয়ারেন্টগুলো তামিল নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সমকালকে বলেন, ‘অর্থঋণ আদালতের আসামিরা তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি আগেই জেনে যায়। ফলে পুলিশ অভিযান পরিচালনার আগেই তারা পালিয়ে যান।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে পূবালী ব্যাংকের সিডিএ শাখা চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান সাজিল স্টিল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮৭ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ৩ মে এই মামলার সর্বশেষ শুনানিতে আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত। 

অথচ ১৫ সেপ্টেম্বর পূবালী ব্যাংক লিমিডেটের বোর্ড অব ডিরেক্টরস তাদের ১৩০তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাজিল স্টিল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের সুদ মওকুফ করে ৭ শতাংশ সরল সুদে ৭ বছরে ২৩ টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ৮ কোটি ৭২ লাখ ১ হাজার ৯২ টাকা পরিশোধের সুযোগ দেয়।

অর্থঋণ আদালত বলেন, অর্থঋণ আদালত আইনের ৩৮ ধারা এবং ৪৫ ধারায় ডিক্রিকৃত টাকা পরিশোধে আপোষ মীমাংসার সুযোগ রাখা হলেও ৪৫(২) ধারায় আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আদেশে অর্থঋণ আদালত উল্লেখ করেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি ২০১১ সালেই নূন্যতম ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও তারা ব্যাংকের টাকা পরিশোধের কোনো ইচ্ছা প্রদর্শন করেনি। অধিকন্তু আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আদালত বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর এরকম নমনীয়তা এবং উদাসীনতা ব্যাংকিং খাতকে নাজুক অবস্থায় নিয়ে গেছে। জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে তাগাদা দেন আদালত।