দেশজুড়ে আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফের পরিবর্তন হয়েছে। 

মামলাটির তদন্তভার বুঝে নিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর আবু জাফর মো. ওমর ফারুক। মঙ্গলবার তিনি সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ইন্সপেক্টর সন্তোষ কুমার চাকমা বদলি হওয়ার পর ইন্সপেক্টর একেএম মহিউদ্দিন সেলিমকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও পরে তার পদোন্নতি হওয়ায় এখন মামলার তদন্তভার আমাকে দেওয়া হয়েছে। আদালত থেকে কেইস ডকেট বুঝে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুইটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করা হবে।’

গত ২২ নভেম্বর মিতু হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইন্সকেপ্টর একেএম মহিউদ্দিন সেলিম। এ নিয়ে দুই বার তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর এখন তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তার হাতে উঠেছে মামলাটির তদন্ত।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। খুনিরা গুলি করার পাশাপাশি তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ঘটনার সময় বাবুল আক্তার ঢাকায় ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার নিজে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। 

ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। এর আগে গত ১০ মে মামলার বাদী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে আনা হয় বাবুল আক্তারকে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১২ মে তাকে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেনের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট সরোয়ার জাহানের আদালত বাবুল আক্তারকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে ফেনী কারাগারে রয়েছেন তিনি।