ময়মনসিংহে অপহরণের তিন মাস সাত দিন পর এক মাদ্রাসাছাত্রী কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।  কিশোরীর অভিযোগ, ‘জোর করে তুলে নিয়ে ভগ্নিপতি শারীরিক নির্যাতন (ধর্ষণ) করে।’

রোববার কিশোরীকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত জাহান চৌধুরীর আদালতে হাজির করা হলে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে কিশোরীকে মায়ের জিম্মায় পাঠান আদালত। 

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস সমকালকে জানান, মুক্তাগাছা উপজেলার কলাকান্দা গ্রামের বুরহান উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ মিয়া (২৮)। তিনি পেশায় রিকশাচালক। গত ২০১৫ সালে ফরহাদ নিজ উপজেলার একটি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের মেয়েকে বিয়ে করেন। সেই সংসারে চার বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। কিন্তু বিশ হাজার টাকা যৌতুক চেয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় ফরহাদ। পরবর্তীতে অবশ্য সংসারে ফেরানোর চেষ্টাও করেন। তাতে স্ত্রী রাজী না হওয়ায় গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্যালিকাকে তুলে নিয়ে যান ফরহাদ। ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। 

মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গেলে পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে মেয়ের খোঁজ করেন। একপর্যায়ে পরিবারটি জানতে পেয়ে ভগ্নিপতি ফরহাদ তুলে নিয়ে গেছে। 

ওই ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর কিশোরীর মা মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিশোরীকে অপহরন করে ফরহাদ তার সহযোগীদের সহায়তায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে নীতিবহির্ভূত কাজে বাধ্য কিংবা খুন করে লাশ গুম করে ফেলতে পারে এমনটি অভিযোগ করে পরিবার। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আদালতে কিশোরীর মা একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ফরহাদ ও তার বাবা-মাকে বিবাদী করা হয়। 

মামলাটির তদন্তভার পেয়ে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে মুক্তাগাছার কলাকান্দার ফরহাদের বাড়ি থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে। পরে রোববার আদালতে হাজির করা হয় তাকে। 

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোরী শ্যালিকাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় কয়েকদিন। একপর্যায়ে এক লোক ডেকে সাদা কাগজে কিশোরীর স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হত। তবে বিয়ের কোনো সত্যতা বা কাগজপত্র তাদের দেখাতে পারেনি কেউ। এ ধরণের মামলায় তাদের আসামি ধরার এখতিয়ার না থাকায় অভিযুক্তকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি।’