মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। মেহেদীর রঙ এখনও মুছেনি। কিন্তু তার আগেই স্মৃতিপটে আঁকা ছবি হয়ে গেলেন তরুণ ফুড ব্লগার সিফাত রাব্বী (২৮)। 

গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ওঠানো-নামানো যন্ত্রের (হাইস্টার) নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন তিনি। বন্দরের পরিবহন বিভাগের জুনিয়র আউটডোর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন সিফাত। মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন চট্টগ্রাম বন্দরের হাইস্কুল কলোনি এলাকায়। 

চট্টগ্রাম বন্দর থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে কাজ করার সময় কনটেইনার ওঠানো-নামানোর যন্ত্রের নিচে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’ 

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে বন্দর এলাকায় কুয়াশা ছিল বেশি। এক-দুই হাত সামনেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এসময় কনটেইনার উঠানো-নামানোর হাইস্টার নামক যন্ত্রটির নিচে চাপা পড়েন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সিফাত ছোট। তার বাবা আবদুল আওয়ালও বন্দরের কর্মী ছিলেন। আড়াই বছর আগে তিনি মারা যান। মাত্র চারমাস আগে ফারহানা ইসলাম নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মুষড়ে পড়েছেন তার মা জেবুন্নেছা। স্বামীকে হারিয়ে চোখের জল কিছুতেই থামছে না স্ত্রী ফারহানার। 

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা শেষে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে যোগ দেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে তার বেড়ে উঠার প্রিয় বন্দর কলোনি এলাকায়।

ইউটিউবে ‘ক্ষুধার্ত খাদক’ নামে সিফাতের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে ছিল তার আগ্রহ। সেসব খাবার নিজে খেয়ে দেখতেন। সঙ্গে করতেন ভিডিও। ভিডিওগুলো আপলোড করতেন তার ইউটিউব চ্যানেলে। দর্শকদের জানাতেন খাবারে স্বাদ-আস্বাদ নিয়ে। সেসব ভিডিওর মাধ্যমে ভোজনরসিকদের খবর দিতেন নগরের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের। এভাবে ভোজনরসিকদের কাছে ফুড ব্লগার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। 

তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে শোকের মাতম। তার অনেক ভক্ত তাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তাদের একজন ইমাম হোছাইন। তিনি লিখেন, ‘মোটা হওয়ার কারণে অনেকে উনাকে নিয়ে হাসাহাসি করতেন। অথচ তিনি ছিলেন সৎ ফুড ব্লগার। তিনি কখনও কোনো খাবার নিয়ে অতিরঞ্জিত কিছু বলতেন না। কারও কটু কথায় তিনি হাল ছাড়েননি। যখন তার জনপ্রিয়তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন।’