তিনজনই ছিলেন মোটরসাইকেল গ্যারেজের মেকানিক। হয়ে উঠেন মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশের বিশেষজ্ঞ। এরপর নামেন চুরিতে। গড়ে তোলেন চক্র। এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার সীতাকুণ্ড ও নগরের ধনিয়ালাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

চক্রটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পাল্টে বিআরটিএর জাল নথি বানিয়ে বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- আবুল কালাম আজাদ (২২), মো. সাকিব (২২) ও দোলন দাশ (২৩)।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান সমকালকে জানান, গ্রেপ্তার তিন জনের মধ্যে আবুল কালাম পেশাদার মোটরসাইকেল চোর। তিনি হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ চৌধুরীহাট এলাকায় একটি গ্যারেজে মোটরসাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন। একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় গণপিটুনির শিকার হয়ে এলাকা ছাড়েন তিনি। 

এরপর সীতাকুণ্ড উপজেলার জলিল টেক্সটাইল গেট এলাকায় অবস্থান করে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়েন। তখন তার সঙ্গে যোগ দেয় আরেক মেকানিক সাকিব। দোলন নগরীর কদমতলী এলাকার একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের মেকানিক। চোরাই গাড়ির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে জাল কাগজপত্র তৈরিতে পারদর্শী দোলন।

ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘গত ৬ জানুয়ারি রাতে নগরের বালুছড়া আনোয়ারুল আজিম রোডের এক বাড়ির নিচ থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে নেমে তিন জনকে শনাক্ত করা হয়। সীতাকুণ্ড থেকে আবুল কালাম ও সাকিবকে এবং নগরীর ধনিয়ালাপাড়া থেকে দোলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাকিবের কাছ থেকে চুরি করা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেল চুরির পর চক্রটি দ্রুত ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পাল্টে ফেলে। সেখানে বসিয়ে দেয় আসল মোটরসাইকেলের নম্বর। তখন চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়। মামলা হলেও সেটি উদ্ধার করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।’