নরসিংদীর ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশনের রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেন- প্রাইভেটকার সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ১টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ আলী জেলার শিবপুর উপজেলার দত্তেরগাও গ্রামের মনোউদ্দিন ভুঁইয়ার ছেলে।

ঘোড়াশাল রেল স্টেশনের মাস্টার মো. গোলাম মোস্তফা সমকালকে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্রগ্রামগামী তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেস রাত ১টায় ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করছিলো। একই সময় স্টেশনের পূর্ব দিক দিয়ে ঘোড়াশাল-পলাশ বাইপাস সড়কে রেলক্রসিং দিয়া রাস্তা পার হচ্ছিলো একটি প্রাইভেটকার। 

ট্রেন দ্রুতবেগে এসে প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয় এবং এটি রেল লাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। 

ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয় এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

পলাশ  ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সাদিকুল বারী জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়িচালক ড্রাইভার পলাশের চরসিন্দুরের আল আমীন (৪৫), শিবপুর দত্তেরগাও গ্রামের মোকারম হোসেন (৩০) ,মাহবুব (৩০) ও ইউসুফ আলীকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং  আবদুল্লাহ (৯) ও রেদওয়ান (৮) নামে দুজনকে পলাশ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইউসুফকে আলী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী জানান , ওই রেলক্রসিংটি অরক্ষিত ছিল।

তিনি বলেন, ওই প্রাইভেটকারে থাকা ছয় জনের মধ্যে মাহবুব বিদেশগামী ছিলেন।  শিবপুরের নিজ বাড়ি হতে সবাই সিঙ্গাপুরগামী ওই ব্যক্তিকে নিয়ে ঘোড়াশাল রেলক্রসিং হয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল প্রাইভেটকারে চড়ে।

নিহতের মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কথা বলে জানা গেছে, ঘোড়াশাল পৌরসভার অধীনে কবির ও রতন নামে দুজন গেইটম্যান ওই রেলগেইটের দায়িত্বে রয়েছেন। রাতে রতনের ডিউটি থাকার কথা থাকলেও তিনি ডিউটিতে ছিলেন না।  দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।