যশোর রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ভারতফেরত যাত্রীকে আটকে রেখে হয়রানি, মালপত্র আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এই মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে অভিযুক্ত দুই কনস্টেবল আবু বক্কার ও আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 

গত ৫ জুন রাতে যশোর রেলওয়ে স্টেশনে হয়রানি, লুটপাট ও চাঁদাবাজির শিকার হন সিরাজগঞ্জের সালঙ্গা উপজেলার ধুপিল মেহমানশাহী গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা তেজগাঁও কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র টি এম রাশিদুল হাসান। ঘটনার পর দিন ৬ জুন তিনি জিআরপি হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জুন দুপুরে খুলনা রেলওয়ে জেলার কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মজনুর রহমান অভিযোগ তদন্তে যশোর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন। স্থানীয়সহ সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, তাতে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান জানান, মামলা তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে ঘটনার শিকার যাত্রী টি এম রাশিদুল হাসান অভিযোগে জানান, গত ৫ জুন তিনি ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। এরপর বাসে রাত ৮টার দিকে যশোর স্টেশনে পৌঁছান সুন্দরবন এক্সপ্রেসে সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। স্টেশনে অবস্থানকালে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) কনস্টেবল আবু বক্কার, আতিকুর রহমানসহ সাদা পোশাকধারী আরও ৩ জন তার ব্যাগ তল্লাশির নামে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে ভারত থেকে আনা পোশাক, প্রাসধনীসহ প্রায় ১৫ হাজার টাকার মালপত্র হাতিয়ে নেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে রাত দেড়টার দিকে ছেড়ে দেন। এরপর গভীর রাতে বাধ্য হয়ে প্রাইভেটকার ভাড়া করে বাড়িতে ফেরেন তিনি।