বিশ্বসভায় স্বীকৃতি

২২ জানুয়ারি ২০১৪

আ হ ম ফয়সল

১৯৭০-এর ১২ নভেম্বর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে লাখ লাখ লোকের প্রাণহানিতে 'ধ্বংস থেকে সৃষ্টি'র স্লোগান নিয়ে রামগতি তথা বৃহত্তর নোয়াখালীতে ত্রাণ, পুনর্বাসন, পুনর্গঠন, উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ শুরু করেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত দারিদ্র্য বিমোচন কাজে নিয়োজিত আছেন তিনি। কোস্টাল ফিশারফোক কমিউনিটি নেটওয়ার্ক-কফকনের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল সেক্রেটারি ও পিপলস হেলথ মুভমেন্ট-পিএইচএম বাংলাদেশ সার্কেলের প্রথম চেয়ারপারসন। প্রতিষ্ঠা করেছেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুয়র-ডরপ। বর্তমানে তিনি এর সেক্রেটারি জেনারেল। মানবতার জন্য নিরলস কাজ করে যাওয়া এই ব্যক্তিটিই এএইচএম নোমান।
দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবহিতৈষী কাজে অবদান রাখার জন্য 'গুসি পিস প্রাইজ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৩' লাভ তার ধারাবাহিক কাজেরই মূল্যয়ন । বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি, যিনি এই সম্মানজনক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। যেজন্য পুরস্কার : ২০০৫ সালে বিশ্ব মা দিবস থেকে এএইচএম নোমান দেশে সর্বপ্রথম 'মাতৃত্বকালীন ভাতা' প্রদান কার্যক্রম পাইলট আকারে চালু করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মাতৃত্বকালীন ভাতার উদ্যোগটি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এখন সারাদেশে মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে।
এ ছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন, দরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য গঠন, শিক্ষা, বাসস্থান নিশ্চিতকরণ, মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাসকরণে তিনি ডরপের মাধ্যমে দেশে প্রথম বারের মতো মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা'দের নিয়ে 'স্বপ্ন প্যাকেজ' কার্যক্রম পাইলট আকারে বাস্তবায়ন করেন। এ 'স্বপ্ন' কার্যক্রমটি দারিদ্র্য নিরসনে সরকারি প্রতিশ্রুতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা-বাবা-শিশুকেন্দ্রিক পাঁচ ভিত্তি সংবলিত একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম। মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য 'স্বপ্ন প্যাকেজ'-এর পাঁচটি উপাদান হলো : ১. স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্ড। ২. শিক্ষা ও বিনোদন কার্ড। ৩. একটি গৃহ ও একটি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন। ৪. জীবিকায়ন সরঞ্জাম। ৫. কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে সঞ্চয় ও উন্নয়ন ঋণ (ক্ষুদ্রঋণ) প্রদান করা।
ইতিমধ্যে স্বপ্ন প্যাকেজ কার্যক্রম স্প্যানিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা 'আয়েসিদ'-এর সহায়তায় উপকূলীয় চর এলাকা লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর, সদর এবং নোয়াখালীর চাটখিল ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত ৮৯২ জন মা-বাবা-শিশু তথা পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য নিয়ে কার্যক্রমটি পাইলট আকারে বাস্তবায়ন করেছেন। তার পাশাপাশি তিনি দরিদ্র মায়েদের মৌলিক অধিকার তুলে ধরার জন্য 'মা সংসদ' প্লাটফরমের পাইলট বাস্তবায়নকারী। তিনি সরকারকে সামাজিক বিনিয়োগ করে 'পাবলিক পুয়র প্রাইভেট পার্টনারশিপ-পিপিপিপি'-এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ২০ বছর এক প্রজন্ম মেয়াদে 'স্বপ্ন প্যাকেজ' কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য লবিং করে যাচ্ছেন। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করায় ইতিমধ্যে তিনি 'মাতৃবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
তিনি 'নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক পরিষদ' ও 'স্বাস্থ্যগ্রাম' কার্যক্রমের প্রবক্তা। তিনি ২০০৯ সালে জেলা সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সমাজকর্মী নির্বাচিত হন।
ব্যক্তি নোমান : তিনি ১৯৪৭ সালে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডারে বসবাস, শিক্ষা ও কর্মজীবন শুরু করেন। বাবা সমাজসেবক ও চিকিৎসক আলহাজ ডা. মফিজুর রহমান। মা শামছুননাহার (মৃত)। বি.কম (১৯৬৬) পাস করে সিএ ফার্মে কাশেম অ্যান্ড কোম্পানি থেকে সিএ কোর্স সমাপ্ত করেন। তিনি পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। স্ত্রী ডা. রাজিয়া বেগম শিশু চিকিৎসক। একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান নেদারল্যান্ডে পরিবেশ বিজ্ঞানে মাস্টার্স করে বর্তমানে গবেষণারত। দুই মেয়ে জাফরিন হাসান ও জেরিন হাসান।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]