ঝাঁপিয়ে পড়েছে তদবিরকারীরা

২২ জানুয়ারি ২০১৪

সমকাল প্রতিবেদক

তদবির ছাড়া কোনো কাজ হয় না_ এই অমোঘ সত্য এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। সরকার আসে, সরকার যায়_ তদবিরকারীদের চেহারাগুলো শুধু বদলে যায়। কিছু তদবিরকারী আছেন, তারা আসেন অনন্যোপায় হয়ে। নিজের স্বার্থসিদ্ধি নয়, প্রতিষ্ঠানের কাজে। কেউ আসেন হয়রানিমূলক বদলি ঠেকাতে, যুক্তিসঙ্গত কারণে বদলি হতে। এদের বাইরে রয়েছেন 'তদবিরবাজরা'। তাদের পেশাই তদবির। লক্ষকোটি টাকা উপার্জন করছেন রাজনৈতিক তকমাযুক্ত এমন লোকের সংখ্যা বেশি। তারাই তদবিরবাজ। নতুন সরকারের পথচলা শুরু হতেই সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতর ও মন্ত্রীদের বাসভবনে আনাগোনা বেড়েছে তাদের। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সচিবালয়ে প্রবেশের পাস ইস্যুও অনেক বেড়ে গেছে। যৌক্তিক কাজ নিয়ে যেমন সাধারণ মানুষ আসছেন, তেমনি পেশাদার তদবিরবাজদের নানা অনৈতিক আবদারও সামলাতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। তদবিরের চাপে অনেক মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্মেও বেশ ব্যাঘাত ঘটছে। জানতে চাইলে একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, তদবির সব সময়ই ছিল। নির্বাচনকালীন সরকারের সময় কিছুটা কম থাকলেও এখন আবার
বেড়েছে। অনেকে বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয় দিয়ে কাজ নিয়ে আসছেন। কর্মকর্তারা জানান, সরকারের মেয়াদ কত দিন হবে, তা নিয়ে তদবিরবাজরা নিশ্চিত নন বলে দ্রুত 'কাজ' করিয়ে নিতে চাইছেন তারা।
সমকালের সঙ্গে আলাপকালে একাধিক সচিব বলেছেন, তদবির মানেই খারাপ নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও সমাজকল্যাণমূলক নানা কাজ নিয়েও অনেকে আসেন। সেসব ক্ষেত্রে তাদের যৌক্তিক তদবির রাখার চেষ্টা করা হয়।
গত নির্বাচনকালীন সরকারের সময়ে প্রশাসনিক কাজকর্মে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। নির্বাচনী আচরণবিধিমালা অনুসরণ করতে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্মই সে সময়ে কিছুটা থমকে যায়। ফলে প্রতিটি দফতরেই ফাইলের স্তূপ জমে ওঠে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি, পদায়নসহ উন্নয়নমূলক কাজের ফাইলও আটকে ছিল। ওই সময়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেও ফাইল ছাড়ানো যায়নি। তাদের আশ্বস্ত করা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর ফাইল ছাড়া হবে। এখন তারা বিভিন্ন দফতরে ঘোরাঘুরি করে ফাইল ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মন্ত্রীরা দায়িত্ব নেওয়ার পর মুখচেনা তদবিরবাজরা এখন তাদের শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানাতে বিভিন্ন সংগঠনের নামে ভিড় করছেন।
সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে তদবিরের বেশি চাপ। সপ্তাহের সোমবার বাদে তারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রীর দফতরে ঘুরতে থাকেন। শুধু মন্ত্রীর দফতর নয়, কেউ কেউ সচিব, অতিরিক্ত ও যুগ্ম সচিবদের কাছে ভিড় জমান। এসব তদবিরের মধ্যে চাকরি, বদলি, পোস্টিং, বিভিন্নজনের বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইলে স্বাক্ষর আদায় করে দেওয়া, ব্যবসার তদবির, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে তদবির করেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাছে।
তদবিরকারীদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ মহাজোটের শরিক অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। অনেকে আসেন নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে। এর বাইরে আরও অনেক তদবিরকারী রয়েছেন, যারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দিলেও বরাবরই এরা 'তদবিরবাজ' হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় :মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দফতরে গিয়ে দেখা গেছে ভিড়। সারাদিনে ৯ জন এমপি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। সকালে হুড়মুড় করে মন্ত্রীর রুমে ফুল হাতে ঢুকে পড়েন কৃষক লীগের সহসভাপতি এমএম করিম। এই নেতা বিটিভির ক্যামেরাম্যানকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন। বাধ্য হয়ে মন্ত্রীকে উঠে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার সামনে নানা আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়। একটু পর আসেন মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাহীনা দেওয়ান। তিনি তার বদলির আবেদন মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তার আবেদনে সুপারিশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এমপি। নুরুল ইসলাম নাহিদ সমকালকে বলেন, শুভেচ্ছা জানানোর নামে দিনে অফিসে আর রাতে বাসায় অসংখ্য মানুষ আসেন। তাদের নিবৃত্ত করতে চাইলে আবার মনে কষ্ট পান। তিনি বলেন, 'সমকালের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীসহ সব মানুষকে বলতে চাই, দয়া করে আমাদের ভালো কিছু কাজ করার সুযোগ দিন। চাপ সৃষ্টি করে অনৈতিক কাজ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।'
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় :প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের দফতরে গিয়েও গতকাল দেখা গেছে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়। তার ছোট্ট কক্ষে অভ্যাগতদের সংকুলান হচ্ছিল না। মন্ত্রী বলেন, 'সবাইকে বসার জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না, বহু লোক প্রতিদিন আসছে। তদবির করতে আসুক আর দেখা করতেই আসুক, আমি সবাইকে আমার রুকে ঢুকতে দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের সবাইকে বলে দিয়েছি।'
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় :স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দেখা যায়, তদবিরকারীদের ভিড় বেড়েছে। গেট পাস দেওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ থেকে শুরু করে সরকার সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতাকর্মীদের তদবিরের ফাইল নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা কয়েক দিন ধরে মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন। গত রোববার প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাক্ষাৎ পাননি। একই দিন স্বাচিপের এক প্রভাবশালী নেতা প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কৃষক লীগের সহসভাপতি এমএম করিম শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে যান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও মন্ত্রীর সাক্ষাৎ মেলেনি। সচিবালয়ে তদবিরবাজ হিসেবে পরিচিত এই এমএ করিম বিগত মহাজোট সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কৃষক লীগ নেতার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে দেখা গেছে চিত্তরঞ্জন দাস নামের আরেক আওয়ামী লীগ নেতাকে। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। এসব সভার কোনোটিতে সভাপতিত্বও করছেন। স্বাচিপ নেতারাও পিছিয়ে নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রীর যোগদানের পর তারাও উঠেপড়ে লেগেছেন। তবে স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বড় সেক্টর। বিভিন্ন অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাপ্তরিক কাজ করত আসেন। তাই হয়তো একটু জটলা দেখা যায়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় :খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় পাঁচ হাজার লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে দীর্ঘদিন। নতুন করে শুরু হবে ওএমএস কর্মসূচির চাল বিতরণের লাইসেন্স প্রদান। খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার শুরুতেই পছন্দের জায়গায় বদলি আর পদোন্নতির জন্য শুরু হয়েছে তদবির। চাকরিপ্রার্থীসহ শত শত দর্শনার্থী প্রতিদিন মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সচিবালয়ে আসছেন। গতকাল দুপুরে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সচিবালয়ে আসেন নওগাঁর চালকল ব্যবসায়ী আশুতোষ সরকার। মন্ত্রী না থাকায় তিনি ফিরে যান।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় :গতকাল সচিবালয়ে লালমনিরহাট থেকে আসেন অ্যাডভোকেট মোর্শেদা বেগম মানু। তিনি সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী হয়েছেন। সচিবালয়ে আসেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও পরিচিত অন্যান্য মন্ত্রীর সুপারিশ আদায়ের জন্য। তিনি বলেন, নিজের কাজ ছাড়াও এলাকার দলীয় লোকজনের কয়েকটি সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিচ্ছি।
ভোলার দৌলতখান থেকে গতকাল সচিবালয়ে আসেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম। তিনি এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে লড়তে দলীয় সমর্থন বাড়াতে লবিং করতেই সচিবালয়ে আসেন।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় :পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দফতরের সামনেও ভিড় বাড়ছে তদবিরকারীদের। তবে মন্ত্রী তদবিরকারীদের তার রুমে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। গত সোমবার মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ব্যর্থ হয়ে মন্ত্রী যখন অফিস ত্যাগ করেন, তখন মন্ত্রীর পায়ে লুটিয়ে পড়েন দুই তদবিরকারী। তারা জলবায়ু তহবিলের অর্থ দুটি এনজিওকে দেওয়ার তদবির নিয়ে আসেন। মন্ত্রী তদবির নিয়ে তার মন্ত্রণালয়ে আসতে শক্ত ভাষায় বারণ করেছেন।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় :গতকাল দুপুরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের কক্ষে স্লিপ পাঠিয়ে দেখা করেন বিমানবালা পদে প্রার্থী এক নারী। তিনি মন্ত্রীকে তার চাকরি নিশ্চিত করার দাবি জানান। মন্ত্রী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে তার কিছুই করার নেই। এর পরই আসেন বিমানের আলোচিত তদবিরবাজ ইশতিয়াক আহমেদ। একই সময়ে আরেক নারী আসেন ফ্লাইং ক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য মন্ত্রীর সুপারিশ নিতে।
অর্থ মন্ত্রণালয় :অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাধারণত তদবিরগুলো অন্য ধরনের হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবরাই বেশি আসেন তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থছাড়ের জন্য। অর্থছাড়ের বিষয়ে মন্ত্রী, সচিবরা সরাসরি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এর মধ্যেও কেউ কেউ বিভিন্ন ব্যাংকে পদোন্নতি, বদলির তদবির নিয়েও যান। তবে এসব ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেন না তারা। দলীয় লোকজনের ভিড় এখানে তেমন একটা দেখা যায় না। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর গত কয়েক দিন অর্থমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভিড় দেখা গেছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় :ভূমি মন্ত্রণালয়ে সরকারি খাসজমি ও জলমহাল ইজারা নিতে গতকাল সকাল থেইে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে আসেন তায়েবুর রহমান। একই মন্ত্রণালয়ে কথা হয় গাজীপুরের শ্রীপুরের ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত দালাল আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় :ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে এমনিতেই ভিড় লেগে থাকে সব সময়। টিআর,কাবিখা ও অন্যান্য বিশেষ বরাদ্দের জন্য এ মন্ত্রণালয়ে তদবিরবাজদের আড্ডা একটু বেশি। গতকাল দুপুরে মন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া তার কক্ষে খেতে বসেছেন। এ জন্য মন্ত্রীর রুমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও রুমের পিয়নদের ধমক দিয়ে সরিয়ে এক নারী মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকে পড়েন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় :রাজউকের প্লট ও পূর্তকাজ বাগিয়ে নিতে উঠতি বয়সী কিছু নেতাকে মঙ্গলবার দেখা গেছে এ মন্ত্রণালয়ে ঘুরঘুর করতে। কেউ কেউ নিজেদের 'মন্ত্রীর কাছের লোক' হিসেবে কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে বিবিধ আবদার জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় :অস্থায়ী পাস নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতানেত্রীরা নিরাপত্তা শাখায় ভিড় করছেন। যুবলীগ নেতা আকবর হোসেন এসেছিলেন তার পাস নবায়ন করতে। নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে দ্রুত পাস ইস্যু করার জন্য এক কর্মকর্তাকে চাপ দেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় পুনরায় জমা দিতে বলেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দফতরে যান। খুলনার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখায় তদবির করতে আসেন। ফাইল দ্রুত ছাড়ার জন্য তিনি প্রতিমন্ত্রীর দফতরে যান। তিনিসহ অনেকে কয়েক দিন ধরে মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি করছেন। কোনো কিছুতে কাজ না হওয়ায় শেষমেশ দালালের শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, কয়েক দিন মন্ত্রণালয়ে ঘোরাঘুরি করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
মন্ত্রীদের বাসভবনেও ভিড় :মন্ত্রীদের বাসভবনেও সকালে ও রাতে ভিড় করছেন অনেকে। মিন্টো রোডে মন্ত্রিপাড়ার বিভিন্ন বাসায় ফুল আর মিষ্টি নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন সংগঠনের নামে নেতাকর্মীরা। শুভেচ্ছা বিনিময়ের ফাঁকেই মন্ত্রীদের হাতে গুঁজে দিচ্ছেন তদবিরের নানা কাগজ। করছেন বিভিন্ন আবদার। কে কত বেশি কাজ বাগিয়ে নিতে পারেন, তা নিয়েও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে।
এ ব্যাপারে অবসরপ্রাপ্ত একাধিক সচিব সমকালকে বলেন, তদবিরকারীদের নির্বিচারে গালমন্দ করা সঠিক নয়। তদবির না করলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার কোনো কাজ করানো এখানে সহজ নয়। সবকিছু সচিবালয়ে কেন্দ্রীভূত। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে কোনো কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হলে সচিবালয়ে এভাবে তদবিরকারীদের ভিড় বাড়ত না। এসব কথা যুগের পর যুগ বলা হচ্ছে, কোনো কাজ হচ্ছে না।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]