বিএনপি জামায়াত দূরত্ব শুধুই কৌশল

২২ জানুয়ারি ২০১৪

রাজীব আহাম্মদ

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে 'দূরত্ব' সৃষ্টি করেছে বিএনপি। এ দূরত্বকে শুধুই কৌশল বলছে জামায়াত। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সংলাপের জন্য বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার শর্ত দিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও একই পরামর্শ দিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে সমর্থন পেতে বিএনপির এ সমর্থন লোক দেখানো।
জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আলাপে এসব তথ্য জানা যায়। জামায়াত নেতারা জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে জোটের চেয়েও বেশি প্রয়োজন আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়। দূরত্ব সৃষ্টির মাধ্যমেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে বিএনপি যদি দ্রুততম সময়ে নির্বাচন আদায় করতে পারে_ তাতেও আপত্তি নেই জামায়াতের। দলটি মনে করে, বর্তমানে যে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে তারা রয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তা আর থাকবে না। ক্ষমতার শরিক হতে না পারলেও মুক্তভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়া যাবে। এর জন্য নিজে থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল ছাড়তেও প্রস্তুত জামায়াত।
গত সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতকে বাদ দিয়ে গণসমাবেশ করে বিএনপি। গত রোববার রাত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ছিল গণসমাবেশ হবে ১৮ দলের ব্যানারে। সহিংসতার জন্য জামায়াতকে অভিযুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জামায়াত ছাড়তে বিএনপিকে পরামর্শও দিয়েছে
তারা। হেফাজত থেকেও দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এ চাপে শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জামায়াত এবং হেফাজত সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে দলীয় ব্যানারে গণসমাবেশ করে বিএনপি।
জামায়াত নেতারা জানান, গত দুই বছরে জামায়াত-শিবিরের প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। গত এক মাসে 'ক্রসফায়ারে' নিহত হয়েছেন দলের ৯ নেতা। হাজার হাজার নেতাকর্মী জেলে আছেন। প্রতিদিনই নতুন করে আরও ৫০-৬০ জন গ্রেফতার হচ্ছেন। দলের অন্তত পাঁচ লাখ নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী পর্যন্ত আত্মগোপনে রয়েছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও জামায়াতপন্থি প্রকৌলশী সংগঠনের এক নেতা সমকালকে জানান, বাদ দেওয়া হয়নি। জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করেই বিএনপি দলীয় ব্যানারে গণসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি জানান, বিএনপি-জামায়াত সম্পর্ক অটুট রয়েছে। কৌশলগত কারণে আপাতত দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে দূরত্ব হ্রাস বা বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রকাশ্যে দূরত্ব বজায় রাখলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তাই করছেন বলে জানান জামায়াতের এক কর্মপরিষদ সদস্য। রোববার রাতে খালেদা জিয়া নিজের এ মনোভাব দলের নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন। জামায়াতের এ নেতা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার বরাতে সমকালকে বলেন, 'খালেদা জিয়া জোটের ব্যাপারে সিরিয়াস। খালেদা জিয়া বলেছেন 'জামায়াতের সঙ্গে জোট মানুষ পছন্দ না করলে তারা আমাদের ভোট দেবে না। বাংলাদেশের মানুষই এর বিচার করবে।'
সূত্র জানায়, সহিংসতার বদনাম ঘোচাতে আপাতত জামায়াত শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করবে। যুদ্ধাপরাধের মামলায় দলের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায় হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবার আর রাজপথে সহিংসতায় নামবে না তারা।
দলের একাংশ চাইলেও সহসাই নতুন নামে আসছে না জামায়াত। নাম পাল্টে একাত্তরের বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে দল গঠনের যে তৎপরতা রয়েছে, তা খুব শিগগির হচ্ছে_ এমন সম্ভাবনা নেই। দলটির নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত সে পথে হাঁটবে না জামায়াত।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]