সর্বোচ্চ সাজা পেতে পারেন আশরাফুল

১০ জুন ২০১৪

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সব পক্ষকে বিপিএল ফিক্সিংয়ের বিচারের পূর্ণাঙ্গ রায় ই-মেইলে পাঠিয়ে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেখানে কে কী কারণে দোষী এবং কী কারণে নির্দোষ, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। ১৮ জুন স্যাংশন হেয়ারিংয়ের (শাস্তির শুনানি) পর আসবে শাস্তির বিষয়। বিস্তারিত রায়ে দোষী বা নির্দোষের কারণ ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি আকসু (আইসিসির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট) এবং আইসিসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খাদেমুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। এখানে একটি মজার ব্যাপার হলো, তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের তদন্তে দোষীসাব্যস্ত বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন। আজীবন নিষেধাজ্ঞার খৰ নেমে আসতে
পারে তার ওপর।
ফিক্সিংয়ের দায়ে দোষীসাব্যস্ত হওয়া ঢাকা গ্গ্ন্যাডিয়েটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিহাব চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার নওরোজ এম আর চৌধুরী গতকাল জানিয়েছেন, তার মক্কেলকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২.১.১ ধারা ভঙের দায়ে দোষীসাব্যস্ত করা হয়েছে। শিহাব চৌধুরীর অপরাধ, অর্থের জোগান দিয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ২.১.১ ধারা ভঙের দায়ে দোষীসাব্যস্ত করা হয়েছে ঢাকা গ্গ্ন্যাডিয়েটরসের ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকেও। আশরাফুল নিজেই স্বীকার করেছেন, ম্যাচ ফিক্সিং করার জন্য অর্থ নিয়েছিলেন তিনি। বিসিবির আইন অনুযায়ী এ ধারা ভঙের শাস্তি হলো পাঁচ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা। ধারনা করা হচ্ছে, সর্বোচ্চ সাজাই পেতে যাচ্ছেন আশরাফুল। অপর দুই অভিযুক্ত শ্রীলংকার কৌশল্যা লুকোরাচ্চি ও নিউজিল্যান্ডের লু ভিনসেন্টকে ২.৪.১ ধারা ভঙের দায়ে দোষীসাব্যস্ত করা হয়েছে। এ ধারা ভঙের সাজা হলো এক থেকে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা। শাস্তির বিষয়টা আসবে ১৮ জুন স্যাংশন হেয়ারিংয়ের পর। আশরাফুলের ব্রিটিশ আইনজীবী ইয়াসিন প্যাটেল ট্রাইব্যুনালের কাছে স্যাংশন হেয়ারিংয়ের তারিখ পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের ওপর কী সাজা আরোপ করা হবে সেটা জানার জন্য ১৮ জুন স্যাংশন হেয়ারিংয়ে এ চারজন আইনজীবীসহ উপস্থিত থাকতে পারেন। আর নির্দোষ ঘোষিত ছয় জনও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বাদীপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। এ ছাড়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার থাকছে বাকিদেরও।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আকসুর ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। আকসুর দুই কর্মকর্তা ভারতের ধরমবীর সিং ও ইংল্যান্ডের পিটার ওশিয়ে নাকি নির্বিঘ্নে ফিক্সিং করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ভূমিকার কারণেই নাকি ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার পরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা গ্গ্ন্যাডিয়েটরস ও বরিশাল বার্নার্সের ম্যাচে আশরাফুলের বিরুদ্ধে ধীরগতিতে ব্যাটিং করার অভিযোগ এনেছিল আকসু; কিন্তু ওই ম্যাচে আশরাফুলের চেয়েও ধীরগতিতে ব্যাটিং করেন শ্রীলংকার তিলকারত্নে দিলশান। ট্রাইব্যুনাল থেকে যখন আকসুর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আশরাফুলের চেয়েও ধীরগতিতে ব্যাটিং করার পরও কেন দিলশানের নাম বাদ দিলেন তারা। এর কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি আকসু। এজন্য আকসুর চেয়ারম্যান স্যার ডোনাল্ড ফ্ল্যানাগান ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চেয়ে গেছেন।
আরও অনেকের বিপক্ষে ইচ্ছা করে তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেনি আকসু। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ঢাকা গ্গ্ন্যাডিয়েটরসের ইংলিশ কোচ ইয়ান পন্ট। তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চেয়ে আকসুকে বারবার তাগাদা দেন ট্রাইব্যুনাল। সাড়া না পেয়ে আইসিসিকে তিনবার চিঠি পর্যন্ত দেন ট্রাইব্যুনাল; কিন্তু আইসিসির কাছ থেকেও এ ব্যাপারে সদুত্তর পাননি ট্রাইব্যুনাল। পন্টের ব্যাপারে এত চেষ্টা করেও কোনো কিছু জানতে না পারার কারণটা জানা গেছে। আকসুর কর্মকর্তা পিটার ওশিয়ে ও ইয়ান পন্ট নাকি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই পন্টের গায়ে কোনো আঁচ লাগতে দেননি তিনি। বিস্তারিত রায়ে আকসুর বিপক্ষে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো, আগে থেকে জানার পর ফিক্সিং বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি তারা।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]